হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশের জন্য এলএনজি পরিবহনে অসুবিধা নেই : ইরানের রাষ্ট্রদূত
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশের তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো রকমের অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ ভাগ জ্বালানি পরিবহন হয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি জোগানদাতা ছিল কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে প্রতিশ্রুত এলএনজি সরবরাহ করতে কাতার অপারগতা প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের সময় আমরা কেবল আরব দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। ইরান কখনো কোনো আরব দেশের ওপর আক্রমণ করেনি। বাংলাদেশ সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলছে। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো জোট গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করি না। বরং আমরা মনে করি, এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।
জাহানাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী বা সমুদ্রপথ খোলার পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। আমার দৃষ্টিতে, মক্কা চুক্তিটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশ মাত্র। এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তি নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নই। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা একটি পরমাণু অস্ত্র মুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব সমর্থন করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি ‘যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ করা। তখন আরব দেশগুলো সেই প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কারণ তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট। এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব এবং জর্দানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন- যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাক্সিক্ষত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে? গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্দান, বাহরাইন, কুয়েত এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়ার জন্য নিজ থেকে আগ্রহ দেখাইনি। তবে এ চুক্তির সদস্য দেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।
জাহানাবাদির সাথে সাক্ষাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশমিত হবে বলে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।