বঞ্চনা পিছু ছাড়ছে না বগুড়াবাসীর
Printed Edition
আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস
উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসী আবার হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার টানা ১৬ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত থাকার পর নতুন করে আশায় বুক বাঁধলেও সে আশায় গুড়েবালু। কারণ বিগত দেড় বছরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। সর্বশেষ মহান বিজয় দিবসের আগে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া বিমান বন্দর সম্প্রসারণ করে চালু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বিগত আওয়ামী শাসনামলের ১৬ বছরে কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। তাই উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার মানুষ ন্যায্য অধিকারটুকুও পায়নি। বগুড়ার কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের সভা, প্রিএকনেক বা একনেক বৈঠকে উঠলেও তা ফিরিয়ে দেয়া হতো। তাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর বগুড়াবাসী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশায় বুক বাঁধেন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও উন্নয়নের আশার বাণী শোনানো হয়। সে লক্ষ্যে বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। তারই অংশ হিসেবে বিজয় দিবসের ’২৫ আগেই দেড় শ’ বছর বয়সী দেশের সবচেয়ে বড় বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অধিশাখা-১ এর যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মো: হাফিজুর রহমান খান গত ২০ অক্টোবর ’২৫ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার যে আটটি যোগ্যতা দরকার তার সব ক’টিই বগুড়া পৌরসভার রয়েছে। বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করতে কোনো বাধা নেই। তাই ২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা হবে বলে আশা করি। এরপর সরকারি নিয়মানুযায়ী সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার গেজেট প্রকাশ হবে। কিন্তু সেটা আর হয়নি।
গত বিজয় দিবসের আগে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটির (নিকার) কোনো বৈঠক না হওয়ায় প্রস্তাব ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বৈঠক কখন হবে তাও জানা যায়নি।
এ ব্যাপরে বগুড়ার নবাগত জেলা প্রশাসক মো: তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নিকারের সভা কখন হবে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যাপার। এই সভায় সিদ্ধান্ত না হলে বলা যাচ্ছে না কত দিন সিটি করপোরেশন ঘোষণা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ভূমি হুকুম দখল বাবদ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে দাতা সংস্থা খোঁজা হচ্ছে। দাতা মিললে মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০০১ সালের গেজেট অনুযায়ী বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (ববিপ্রবি) জন্য ভিসি নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান সরকার। এরপর সদরের নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি শিক্ষা বর্ষে দু’টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি চাওয়ার পর বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এ পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি। ফলে এবার শিক্ষার্থী ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে চলতি ডিসেম্বর মাসে আবার এ অনুমতির চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে ববিপ্রবি ভিসি অধ্যাপক ডক্টর মো: কুদত ই জাহান বলেছেন, এ মাসে দু’টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতির চেষ্টা করছি। আশা করি অনুমতি মিলবে। নইলে আরো এক বছর পিছিয়ে যাবে ভর্তি।
বগুড়া বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ করতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি। ফলে গত জুলাই মাসে বিমান বন্দর চালুর কথা জানা গেলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।