রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও দ্রুত বৈশ্বিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ। সে সাথে এ সঙ্কটকে কেবল নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে এর মানবিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিকগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র (সিপিআর) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট : বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, নিজ দেশে চরম নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের দেশপ্রেম এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সংহতি রক্ষায় রাষ্ট্রের যে রূপরেখা রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখেই এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপরাধপ্রবণতা বা নিরাপত্তাজনিত অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই এ সঙ্কটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার পাশাপাশি দেশীয় গবেষক, বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে শক্তিশালী জনমত গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি নীতি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকদের দেয়া বস্তুনিষ্ঠ সুপারিশগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুল আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম. হক এবং রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানা। তারা বাস্তবমুখী প্রত্যাবাসন কৌশল, মিয়ানমারের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সঙ্কট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।