সান্ত¡নার জয়ে রাজশাহীর ইতিহাস
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল প্রথম দুই ম্যাচে হেরেই। ইস্টবেঙ্গল এবং সাবাহ এফসির কাছে ০-৪ যথাক্রমে ১-২ গোলে হার। এই দুই পরাজয়ের পর শেষটা জয়ে করারই টার্গেট ছিল রাজশাহী স্টারসের। শেষ পর্যন্ত এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সমাপ্তিটা জয়েই করেছে বাংলাদেশী ক্লাবটি। গতকাল মালয়েশিয়ার সাবাহতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গুয়ামের রোভার্স এফসিকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী স্টারস। তহুরা খাতুনের হ্যাটট্রিকে এই সহজ জয়। এতে প্রথম দল হিসেবে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় পেল বাংলাদেশের কোনো ক্লাব। সেই সাথে এই আসরে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন ‘মেসি’ খ্যাত তহুরা। কাল ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে সাবাহকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে গেছে ইস্টবেঙ্গল।
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার তহুরা জানান, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি আমার অষ্টম হ্যাটট্রিক। আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে আমার গোল ৬০টির উপরে।’ প্রথম দুই ম্যাচে হারের জন্য ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে ভ্রমন ক্লান্তি আমাদের শেষ করে দিয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে রেফারির আমার পেটে লাগা বলকে হ্যান্ডবল বলে গোল বাতিল করে। এরপর গোল মিস আমাদের জিততে দেয়নি। এর পরও এই জয় আমাদের সান্ত¡না এনে দিয়েছে। সেই সাথে এই আসরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে আসন্ন এশিয়ান গেমসে।’ তার মতে, ‘রোভার্সের বিপক্ষে আমাদের এই ম্যাচটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচের মতোই হয়ে গেল।’
দুর্বল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রের ক্লাব রোভার্সের বিপক্ষে রাজশাহী যে সহজে জিতবে তা আগেই অনুমেয় ছিল। কারণ তারা আগের দুই ম্যাচে হেরেছিল ১৩-০ ও ১২-০তে। কাল গোলাম রাব্বানী ছোটনের দল ম্যাচের ৩ মিনিট বয়সেই এগিয়ে যায়। শামসুন্নাহার সিনিয়রের শট গুয়ামের গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে যায়। এরপর হ্যাটিট্রক মিশনের পথে ১৩ ও ২৫ মিনিটে জোড়া গোল করেন তহুরা খাতুন। তার প্রথম গোলটি সুলতানার পাস থেকে। ৫৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ে রাজশাহী স্টার্সের। ৫৪ মিনিটে গোল করেন মণিকা চাকমা। ৬০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা। ৭১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বড় শামসুন্নাহার। এরপর ছোট শামসুন্নাহার ৯৫ মিনিটে গোলের দেখা পান। ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান জানান, আমরা এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললাম। ঘরোয়া লিগও খেলেছি মাত্র একটি। সেই আলোকে আমাদের কাছে এই আসরের ফলাফল মুখ্য নয়। আমরা দেশের অন্য ক্লাবগুলোকে এএফসির আসরে অংশ নেয়ার পথ দেখলাম। অর্থাৎ আমরাই পাইওনিয়ার।’
উল্লেখ্য, জাতীয় দলের সব ফুটবলার নিয়ে এই আসরে খেলেছে রাজশাহী স্টার্স। সবাই আশা করেছিল তারা কোয়ালিফাই করবে। কিন্তু গ্রুপে তৃতীয় হয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশ।