ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫ জন ৪ জনই ঢাকা বিভাগে একদিনে ভর্তি ৮৩৯

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। গত শনিবার সকাল ৮টা পর থেকে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এদের মৃত্যু হয়। ঢাকায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে। অপর একজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। অপর দিকে ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৩৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চিকিৎসার জন্য। তবে এটা ডেঙ্গু আক্রান্তের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়। কেবল যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সংখ্যাই স্বাস্থ্য অধিদফতর দিয়ে থাকে।

বর্তমানে দেশে বৃষ্টির পরিমাণও কিছুটা কমে গেছে। আবার অনেক স্থানে সামান্য বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিবেশটাই ডেঙ্গুর বংশ বিস্তারের জন্য খুবই অনুকূল। আবার সাথে আর্দ্র পরিবেশ ও তাপমাত্রার একটি সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে যে তাপমাত্রা ও আর্দ্র পরিবেশ রয়েছে সে পরিবেশের কারণেই বাড়ছে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশা।

সচেতনতার সাথে সারা দেশে সমান হারে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে বলে বলছেন চিকিৎসকরা।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২৮৭ জন। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৯১ জন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৬১ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৫ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১০০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭১ জন, খুলনা বিভাগে ১০৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৯ জন, রংপুর বিভাগে ২৩ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজন ভর্তি হয়েছেন।

সারা দেশে গত জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৮২ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে কেবল আগস্ট মাসের গত ২৩ দিনে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে জুলাইয়ের ৩১ দিনে দেশে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে তুলনায় আগস্টের গত ১০ দিনে তুলনামূলক মৃত্যু কমই হয়েছে। আগস্টের ২৩ দিনের দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কিন্তু জুলাইয়ের ৩১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

অপর দিকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে। এরপরই খুলনা বিভাগে ১৬ জন। ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে মারা গেছে ১০ জন। বাকিরা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় হাসপাতালে মারা গেছে।