সিলেটে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান
দেশের নৈরাজ্য ঠিক করতে সঠিক মানুষ দরকার
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
খ্যাতিমান দার্শনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, বর্তমান ‘মুনাফাভিত্তিক’ ও ‘কুশিক্ষার’ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে একটি বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দেশকে উজ্জীবিত করা, সাহিত্যকে উজ্জীবিত করা। কিন্তু আমরা সেটা না করে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছি। তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র নৈরাজ্য চলছে। এটাকে ঠিক করার জন্য সঠিক মানুষের দরকার। আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি তাহলে শুধু অতীতের কথা মনে রাখলে হবে না, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। এখনো দেশের লাখ লাখ মানুষ সাধারণ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষার জন্য সরকার টাকা খরচ করতে চায় না। অথচ এ দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকার চলে। সরকারে যারা আসে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করে। আমাদের রাষ্ট্র জাতির দায়িত্ব নিতে চায় না। কারণ আমরা একটি অভিশপ্ত জাতি।
অধ্যাপক ড: সলিমুল্লাহ খান গতকাল দুপুরে সিলেট শহরতলীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব ও প্রাক্তন ছাত্র শিক্ষক পুনর্মিলনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভালো শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণে শিক্ষা আনন্দদায়ক হচ্ছে না। বাংলা মাধ্যমকে অবহেলা করে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেয়াকে তিনি ‘ঔপনিবেশিক দাসত্ব’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি বা অন্য ভাষার আধিপত্য হ্রাস, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার রাষ্ট্রীয়করণ ও জাতীয়করণ করা জরুরি কাজ বলে উল্লেখ করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বের করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি স্থানীয় জালালপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের মাঠে আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আখলাকুল আম্বিয়া বাতিন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আখতার হোসেন রুকন, সাংবাদিক খালেদ আহমদ, এস এম ফাহিম ও মাহফুজুল হাসান ইব্রাহিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ধীমান ব্রত পাল। পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ। গীতা পাঠ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুর্য্য সরকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মো: রিয়াজুল কবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ চৌধুরী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনীক চৌধুরী।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল জব্বার জলিল, হোসেন আহমদ, ময়নুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার কাওছার আহমদ, অধ্যাপক মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শুয়েব, জহিরুল হক শিকদার প্রমুখ।
আজ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বেলা আড়াইটায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।