অপরিকল্পিত স্লুইসগেটে পানিশূন্য আত্রাই, কৃষিতে বিপর্যয়

Printed Edition

রুহুল আমিন আত্রাই (নওগাঁ)

অপরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেট নির্মাণের কারণে একসময়ের খরস্রোতা আত্রাই নদী আজ কার্যত মৃতপ্রায়। নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সঙ্কটে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে, জীবিকা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত মৎস্যজীবী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির ত্রিস্রোতা থেকে উৎপন্ন হয়ে আত্রাই নদী বাংলাদেশের দিনাজপুর হয়ে নওগাঁর ধামুইরহাট, পতœীতলা, মহাদেবপুর, মান্দা ও আত্রাই উপজেলা অতিক্রম করে নাটোরের সিংড়া ও চলনবিল হয়ে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নদী হিসেবে পরিচিত এই নদীটি একসময় কৃষি ও মৎস্যসম্পদের প্রধান ভরসা ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশির দশকে আত্রাই উপজেলা পরিষদের কাছে বিশাল আত্রাই নদীর ওপর মাত্র একটি গেটবিশিষ্ট স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। অথচ একই সময়ে উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কাশিয়াবাড়ি এলাকায় একটি সরু খালের ওপর নির্মাণ করা হয় ১০ গেটবিশিষ্ট আরেকটি স্লুইসগেট। এই অপরিকল্পিত কাঠামোর ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ফলস্বরূপ, স্লুইসগেটের দক্ষিণ দিক থেকে চলনবিল পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীটি প্রায় শুকিয়ে গেছে। পাঁচপাকিয়া, বিলগলিয়া, জগদিসপুর, কোলা, কাসুন্দা, খনজোর, জয়সাড়া, নবাবেরতাম্বু, পবনডাঙ্গা, বিপ্রবোয়ালিয়া, গোপালবাটি, বাঁকিওলমা, কাঁন্দওলমা, স্থলওলমা, ভাগসুন্দর, ক্ষুদ্রবিশা, পারবিশা, খাজুরা ও শেরকোলসহ বহু গ্রামের কৃষকরা সেচ পানির অভাবে চরম সঙ্কটে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষক খোরশেদ আলম, নিয়ামত আলী বাবু ও সাইফুল ইসলাম জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় আগের মতো ফসল ফলানো যাচ্ছে না। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, ফলন কমেছে। উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি প্রফুল্লচন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘নদী মরে যাওয়ায় শত শত জেলে পরিবার জীবিকা হারিয়েছে। অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হলেও পর্যাপ্ত বিকল্প কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’

এ বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, স্লুইসগেটগুলো বহু বছর আগে নির্মিত। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এ দিকে স্থানীয়রা অবিলম্বে আত্রাই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে স্লুইসগেট পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও মৎস্য খাতে এ অঞ্চলের ক্ষতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।