কমলগঞ্জে সেচ সঙ্কটে ব্যাহত বোরো আবাদ, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

Printed Edition
bangla-4
পানির অভাবে ফেটে গেছে বোরো ক্ষেত : নয়া দিগন্ত

আব্দুল হামিদ কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কমলগঞ্জে পাঁচ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং সেচের পানির ঘাটতির কারণে আবাদ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধলাই ও লাঘাটা নদীসহ আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির পরিমাণ কমে গেছে। এতে সেচকার্য মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু এলাকায় ক্রস বাঁধ ও সøুইসগেট দিয়ে পানি আটকে চাষাবাদ করা হলেও এর ফলে ভাটির দিকে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না। পানির অভাবে অনেক জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে।

পতনউষার এলাকার কৃষক আকতার মিয়া ও সওকত মিয়া বলেন, প্রতি বছরই তারা বোরো চাষ করেন। কিন্তু এ বছর পানির অভাবে অনেক জমি এখনো অনাবাদিই পড়ে আছে। একই অভিযোগ করেন নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক গোহেল মিয়া, কামাল মিয়া ও সুহেল মিয়া। তাদের দাবি, উজানের বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি আটকে নেয়ায় ভাটির কৃষকরা সেচ সঙ্কটে পড়েছেন। সময়মতো বোরো আবাদ করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, শুষ্ক মৌসুমের কারণে কিছু এলাকায় সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে বোরো আবাদের সময় শেষ হয়ে যায়নি। এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, এমনকি তা অতিক্রম করাও সম্ভব। কৃষকদের দাবি, দ্রুত সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা না হলে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করছেন তারা।