আমড়া ও লেবু দেয়ার কথা বলে আট বছরের এক কন্যা শিশুকে ডেকে নিয়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদার ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাতেই তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। বুধবার দুপুরে পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে।
জানাগেছে, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি তার সহপাঠী আল আমিন, হামিম, জুনায়েদ ও শারমিনের সাথে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা হাজী কালু বিশ্বাসের বাড়ির জামে মসজিদে আরবী পড়তে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদার ওই শিশুকে লেবু ও আমড়া দেয়ার কথা বলে তার ঘরে ডেকে নেন। পরে শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টা চালান বৃদ্ধ এমন অভিযোগ শিশুর পরিবারের।
এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে বাইরে থাকা তার সহপাঠীরা শিশু কর চাচিকে ডেকে নেন। পরে বৃদ্ধ তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনাটি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেয়। কিন্তু ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা বিষয়টি মীমাংসা করেনি। মঙ্গলবার শিশুর বাবা আমতলী থানায় অভিযোগ দেন। ওইদিন রাতে পুলিশ বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদারকে আটক করে। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিশুর বাবা মামলা দায়ের করেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে।
শিশুর বাবা বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে আমার মেয়ে তার সহপাঠীদের সাথে আরবী পড়তে মসজিদ যাচ্ছিল। বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদারের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমড়া ও লেবু দেয়ার কথা বলে আমার মেয়েকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। পরে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। ঘটনার সাথে জড়িত বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদারের শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয় গ্রেফতার বৃদ্ধ হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, জমি নিয়ে ওই পরিবারের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের বিরোধ চলছে। জমি দখল করতেই আমার স্বামীকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দিয়েছে। তদন্ত করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।