কঠোর বার্তা বিএনপির : ভোট বিচ্যুতি ঘটল কিনা সেটিই গুরুত্বপূর্ণ

জয়-পরাজয় নিশ্চিত সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল
Printed Edition

আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিশ্চিত। তারপরও ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে প্রাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন বিবেচনায় বিএনপির প্রার্থী দলের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় একেবারেই চূড়ান্ত। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব:) অলি আহমদের পক্ষে ভোট রয়েছে এক শ’র কম। এই দুই শিবিরের বাইরে অন্য দলের ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আরো ১২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তারপরও সবাই বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জানা গেছে, নিজ দলের বাইরে ভোট যাওয়ার তেমন সম্ভাবনা না থাকলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ভোটকেই অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলছেন। যদিও স্বতন্ত্রদের বেশির ভাগই বিএনপি দলীয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জয়-পরাজয় নিশ্চিত সত্ত্বেও এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছুই নির্ভর করবে। এই নির্বাচন তাই শুধু বঙ্গভবনের জন্য একজন নতুন বাসিন্দা বেছে নেয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয় বরং এটি সংসদে বিরোধী মতের উপস্থিতি, দলীয় আনুগত্যের সীমা, সংসদ সদস্যের ভোটের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষাও। কারণ এই অনুচ্ছেদটি বহাল থাকায় দলীয় আনুগত্য ও এমপির স্বাধীন ভোটের ক্ষেত্রে টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে।

সূত্র মতে, ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক বৈধ প্রার্থী নিয়ে আর ভোট হয়নি। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। তবে সেই নির্বাচনে পঞ্চম সংসদের ৩৩০ সদস্যের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেননি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন বা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীই কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সেই ধারায় ব্যতিক্রম ঘটছে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। ভোট শেষে সেখানেই গণনা ও প্রাথমিক ফল ঘোষণা করা হবে। একইসাথে তারা বলেছে, ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গোপনীয়তা থাকবে না।

সংসদের বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে অত্যন্ত শক্তিশালী। কারণ এই নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপি ও সমমনা জোটের ২৪৭ জন এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৯০ জন। দুই প্রধান রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে স্বতন্ত্র এমপি রয়েছেন ১২ জন। এই হিসাবে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রাজনৈতিক মূল্য শুধু জয়-পরাজয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং ভোটের ফলাফল দুই রাজনৈতিক জোটের সাংগঠনিক শক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংহতির একটি তাৎক্ষণিক চিত্র দেবে। বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল তার দলের সব ভোট পাবেন কিনা, স্বতন্ত্র ক’টি পাবেন, কর্নেল অলি আহমদ তার জোটের ৯০ ভোটের সব ক’টি ধরে রাখতে পারেন কিনা কিংবা এর বাইরে কোনো ভোট আকর্ষণ করতে পারেন কিনা, সেটি সরকার ও বিরোধী উভয় জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিরিক্ত ভোট পেলে সেটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে। আর ভোট যদি দুই শিবিরের নির্ধারিত হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বোঝা যাবে সংসদে রাজনৈতিক মেরুকরণ কতটা দৃঢ়। অর্থাৎ, আজকের নির্বাচনে সংখ্যা ফল নির্ধারণ করবে, কিন্তু ভোটের বিন্যাস রাজনীতির ভাষা নির্ধারণ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্নেল অলি আহমদের প্রার্থিতার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী। এক সময় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিক এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জন্য তার প্রার্থিতা তাই কেবল একটি প্রতীকী বিরোধী প্রার্থী দাঁড় করানো নয় বরং সংসদে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃশ্যমান করারও সুযোগ। অলি আহমেদের জন্যও এই নির্বাচন রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাস্তব প্রতিযোগিতার চেয়ে অন্য অর্থে গুরুত্বপূর্ণ। তার জোটের ৯০ ভোট অটুট রাখা এবং সম্ভব হলে এর বাইরে ভোট পাওয়া, এটাই হবে রাজনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের জায়গাটি হলো, এই ভোট কি সংসদে কোনো বিল বা প্রস্তাবের ওপর দলীয় অবস্থানের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সমতুল্য নাকি এটি সংসদ সদস্যের সাংবিধানিক নির্বাচনী দায়িত্বের একটি স্বতন্ত্র প্রয়োগ? এখানেই আইনি ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি নয়া দিগন্তকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর প্রশ্ন উঠতে পারে।

অন্য দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দেয়া ভোটকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার বিধানও নেই। তারা বলছেন, এখানে একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রশ্ন সামনে আসে, সংসদ সদস্য কি শুধু দলের প্রতিনিধি, নাকি সংবিধানের অধীন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধিও?

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন ব্যালটে নয়, প্রকাশ্য পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালটে ভোটদাতার পরিচিতির তথ্য থাকবে এবং ভোটারকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে হবে। ফলে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব। এখানেই ৭০ অনুচ্ছেদের বিতর্ক আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। গোপন ব্যালট হলে একজন সংসদ সদস্য দলীয় নির্দেশনার বাইরে ভোট দিলেও তার ভোটের পছন্দ নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন। কিন্তু প্রকাশ্য ভোটে দলীয় অবস্থান ও ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে তার দৃশ্যমান রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে। ফলে প্রশ্নটি কেবল আইনের নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মামুন বলেন, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের ভোটের লড়াই নয়। এটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্যও একটি আয়না, যেখানে দেখা যাবে, ৩৫ বছর পর ফিরে আসা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভেতরে আমরা কতটা স্বাধীন ভোটের সংস্কৃতি এবং কতটা দলীয় নিয়ন্ত্রণ দেখতে পাই। আর সেই আয়নার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো থেকেই যাবে গণতন্ত্রের স্বার্থে ৭০ অনুচ্ছেদের সীমা কোথায়? সংসদ সদস্যরা কি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন? দলীয় সিদ্ধান্ত কি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রাখছে?

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের সরকারবিরোধী অবস্থান যেমন জানান দিচ্ছে, তেমনি প্রার্থী হিসেবে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বেছে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কৌশলে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেয়ার চেষ্টা করছে।

জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। আমরা এখানে জিতব কি হারব- এটা বিষয় নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক সেটা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র মতে, দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র, তাদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত হলেও স্বতন্ত্র ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। দুই শিবিরের বাইরের ভোট কোন দিকে গেল এবং কোনো ভোট-বিচ্যুতি ঘটল কিনা- ভোটের পরের রাজনীতিতে এসব প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক : এ দিকে আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভোট দানের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্কতার সাথে ভোট প্রদানে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়। কোনোভাবেই যেন ভোট প্রদানের কোনো বিচ্যুতি না ঘটে সেজন্য সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে একজন সংসদ সদস্য জানান, আজকের বৈঠকে মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ভোট দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেন কোনোভাবেই ভোট প্রদানে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন, তাদেরও মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট প্রদানে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ বৃহস্পতিবার দুপুরে, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবো ইনশাআল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা ও আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভোট প্রদান লাইভ দেখানো হবে। তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফলাফল ঘোষণাটিও আমরা লাইফ দেখাব। বৃহস্পতিবার ইতিহাসের একটা মাহেন্দ্রক্ষণ সৃষ্টি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।

প্রধান হুইপ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন।

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে প্রধান হুইপ বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সরকার ও বিরোধী দল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই।