রাজাপুরে খানাখন্দে ভরা সড়ক সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ
Printed Edition
এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া থেকে নতুন হাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় এক দশক আগে সড়কটি সংস্কার করা হলেও বর্তমানে এটি ভাঙাচোরা, গর্তে ভরা ও কাদামাটিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে আংগারিয়া, জীবনদাসকাঠি, আলগী, কৈবর্তখালি ও নিজগালুয়া গ্রামের হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষক যাতায়াত করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশাভ্যান চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান মৃধা ও রুহুল আমিন জানান, এই সড়কই তাদের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যেতে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় সবাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
আংগারিয়া গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, বর্ষার সময় সড়কে পানি জমে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না এবং রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
ইজিবাইক চালক কালাম ও আলতাফ জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। এতে আয়ের বড় অংশ মেরামত খরচে চলে যায়, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক এনামুল হক বলেন, সড়কের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যভাবে আগামী বাজেটে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং জনজীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হবে।