ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের অঙ্গীকার

মানুষ বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন চায় : তারেক

Printed Edition
first-2
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রাতে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা : নয়া দিগন্ত

কুমিল্লা ও সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ কেবল পরিস্থিতির পরিবর্তন নয়, বরং একটি বাস্তব ও ইতিবাচক জীবনযাত্রার পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় মানসম্মত শিক্ষা, সুচিকিৎসা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। গত রোববার গভীর রাত পর্যন্ত ও গতকাল সোমবার দিনব্যাপী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পৃথক পৃথক নির্বাচনী জনসভা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চৌদ্দগ্রামের জনসভায় তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেয়া হবে, যার মাধ্যমে পরিবারগুলো মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবেন। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ একে ধোঁকা বললেও আমরা যা বলি তা করে দেখাই। জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বেকারত্ব দূর করতে তারেক রহমান আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য কুমিল্লায় একটি আরবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দেশের মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা এবং তাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লাসহ সারা দেশে ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয় সংস্কার করা হবে যাতে চাষাবাদ নির্বিঘœ হয়। এ ছাড়া সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ দিকে সোনারগাঁও প্রতিনিধির পাঠানো খবর অনুসারে, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘দখলবাজি, সহিংসতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে দলেরই হোক, ছাড় দেয়া হবে না।, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মাদক স্পটগুলো কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন তিনি।

তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে রাত পৌনে ১টায় এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রাত আড়াইটায় প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, ‘এই জনস্রোতই প্রমাণ করে জনগণের শক্তি অপ্রতিরোধ্য।’

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। শুধু ভোট দিলেই হবে না, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী নির্বাচন বানচাল বা অনিয়ম করতে না পারে। তিনি কোনো প্রকার স্লোগান দিয়ে সময় নষ্ট না করে কাজে বিশ্বাসী হওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

চৌদ্দগ্রামের জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কামরুল হুদা এবং দাউদকান্দিতে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সোনারগাঁওয়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। জনসভাগুলোতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।