দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা

চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

Printed Edition
onno-1
দক্ষিণ লেবাননের কালাইলেহ গ্রামে ইসরাইলের সাথে চলমান সঙ্ঘাতের মধ্যেই গত ২১ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা মোহাম্মদ আহমেদ সেবলিনির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবিতে তার মা আইদা আবু খলিলকে ছেলের জন্য শোক প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে : ফাইল ফটো

বিবিসি

ইসরাইল ও হেজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই ঘোষণার অংশ হিসেবে রোববার একটি ‘জরুরি সতর্কতা’ জারি করেছে আইডিএফ।

সতর্কবার্তায় দক্ষিণ লেবাননের ১১টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইডিএফ সতর্ক করে বলেছে যে, হেজবুল্লাহ বাহিনী বা তাদের স্থাপনার কাছাকাছি থাকা যেকোনো ব্যক্তি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এই নিরাপত্তার কারণেই তাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি ছোট ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং হেজবুল্লাহর অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত ঘরবাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরাইল পুরো দক্ষিণ লেবাননজুড়ে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এর জবাবে হেজবুল্লাহও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর ইসরাইলে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এই আক্রমণ পরিচালনা করছে।

যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে আলোচনা নয় : লেবানন স্পিকার

লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং হেজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র নাবিহ বেরি গতকাল সোমবার জানিয়েছেন যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। দেশটির শীর্ষ এই শিয়া রাজনীতিকের মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের আরো চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি আলোচনার পর শান্তি স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় এই অবস্থান বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানকে সমর্থন জানিয়ে হেজবুল্লাহ সীমান্ত দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। এর জবাবে ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে গত মার্চে লেবাননে আক্রমণ চালায় ইসরাইল। তেহরানের মতে আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই লেবানন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে যদিও ওয়াশিংটন বলছে এই দু’টি আলাদা বিষয়। ইসরাইল ও লেবানন এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যা মে মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে লড়াই কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরাইল এখনো দক্ষিণ লেবানন দখল করে আছে এবং সেখানে গ্রামগুলো ধ্বংস করছে অন্য দিকে হেজবুল্লাহও ইসরাইলি বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননের ‘আন-নাহার’ পত্রিকাকে বেরি বলেন যেকোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপের আগে যুদ্ধ বন্ধ করাই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী তিনি ইসরাইলের হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া যেকোনো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ দিকে সোমবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের তথাকথিত নিরাপত্তা জোনের বাইরের চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার সতর্কতা দিয়েছে। হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সেখানে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। অন্য দিকে হেজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা রোববার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১১টি অভিযান চালিয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলি বাহিনী ঢুকে পড়ায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সাথে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ওয়াদি রাজ অঞ্চলের দেইর সিরিয়ান ও জাওতার শহরে উভয়পক্ষের মধ্যে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধ চলছে। এই স্থলযুদ্ধে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি রকেট হামলাও চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ দিকে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এমন অভিযোগে রোববার থেকে নতুন করে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অভিযানের অংশ হিসেবে আইডিএফ একটি ‘জরুরি সতর্কতা’ জারি করে দক্ষিণ লেবাননের ১১টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, হিজবুল্লাহর স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থানকারী যে কেউ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি ছোট ভূখণ্ড দখল করে আছে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িঘরগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। অন্য দিকে এর পাল্টা জবাবে উত্তর ইসরাইলে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইল পুরো দক্ষিণ লেবাননজুড়ে তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।