জাস্টিন বিবারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

Printed Edition
bino-1
জাস্টিন বিবারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

সাকিবুল হাসান

ক্যালিফোর্নিয়ার তপ্ত মরুপ্রান্তরের কোচেলা উপত্যকায় গত শনিবার রাতে যেন নস্টালজিয়া আর আধুনিক পপ সঙ্গীতের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঞ্চে যখন জাস্টিন বিবার আবির্ভূত হলেন, তখন সেটি কেবল একটি পারফরম্যান্স ছিল না; বরং ছিল একজন বিশ্বতারকার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩২ বছর বয়সী এই শিল্পীকে দেখার জন্য ভিড় জমানো হাজারো ভক্তের চিৎকার আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ২০২২ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথে বিশ্ব সফর স্থগিত করার পর এত বড় পরিসরে এটিই ছিল বিবারের প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।

মঞ্চে বিবারের উপস্থিতি যতটা সাবলীল ছিল, তার সাজপোশাকে ফুটে উঠেছিল ঠিক ততটাই আভিজাত্য ও সূক্ষ্ম কারুকাজ। বিশেষ করে লেবানিজ জুয়েলারি ডিজাইনার নাদিন ঘোসনের ডিজাইন করা কাস্টম হুপ ইয়ারিংগুলো সবার নজর কাড়ে। রঙধনু নকশার এই বিশেষ অলঙ্কারকে নাদিন ভালোবেসে ডাকেন ‘স্লিঙ্কি’ নামে। নিজের তৈরি শিল্পকর্ম প্রিয় তারকার কানে দেখে আবেগাপ্লুত ডিজাইনার সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে জানিয়েছেন তার গভীর কৃতজ্ঞতার কথা। বিবারের এই কামব্যাক সাজে ছিল একটি লাল সোয়েটার, সাধারণ শর্টস আর কালো বুট, যা তাকে একাধারে সাধারণ অথচ অনন্য করে তুলেছিল।

কনসার্টের শুরুটা ছিল বেশ ছিমছাম কিন্তু অর্থবহ। বিশাল কোনো অর্কেস্ট্রা নয়; বরং বিবারকে দেখা গেল একজন ডিজের ভূমিকায়। নিজের লেটেস্ট অ্যালবাম ‘স্ল্যাগ টু’র বেশ কিছু নতুন গান দিয়ে তিনি শুরুটা করলেও রাতের আসল চমক ছিল দর্শকদের অতীতের সেই সোনালি দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। কম্পিউটারের স্ক্রিনে তিনি নিজেই ইউটিউব ঘেঁটে বের করতে শুরু করেন তার ক্যারিয়ারের সেসব কালজয়ী ক্লিপিংগুলো। স্ক্রিনে একে একে ভেসে উঠছিল ‘বেবি’ খ্যাত সেই কিশোর বিবার থেকে শুরু করে ‘নেভার সে নেভার’ কিংবা ‘বিউটি অ্যান্ড আ বিট’-এর উদ্দাম দিনগুলোর স্মৃতি। হাজারো মানুষের সামনে বসে বিবার যেন নিজের ফেলে আসা শৈশব আর কৈশোরের সাথে নতুন করে পরিচিত হচ্ছিলেন।

পুরো পারফরম্যান্সজুড়ে বিবারকে দেখা গেছে ভীষণ আবেগপ্রবণ অবস্থায়। তিনি বারবার বলছিলেন, এই একটি মুহূর্তের জন্য তিনি বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন। কেবল সঙ্গীত নয়, ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোও তিনি ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিতে কার্পণ্য করেননি। বড় পর্দায় নিজের পুরনো ভিডিওর পাশাপাশি ফুটে উঠছিল স্ত্রী হেইলি বিবারের সাথে কাটানো অন্তরঙ্গ সব দৃশ্য, যা কনসার্টটিতে এক ধরনের ব্যক্তিগত ছোঁয়া এনে দিয়েছিল। গত বছর ‘স্ল্যাগ’ এবং ‘স্ল্যাগ টু’ অ্যালবাম দু’টি প্রকাশের পর থেকেই তার ফিরে আসার গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, তবে কোচেলার এই মঞ্চটিই ছিল তার পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সব মিলিয়ে বিবারের এই ফিরে আসা ছিল কেবল সঙ্গীতের পুনর্জাগরণ নয়; বরং নিজের অস্তিত্ব আর ভক্তদের ভালোবাসার এক গভীর উদযাপন।