ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জে বিএনপির ৮ বিদ্রোহী নেতা বহিষ্কার
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জে বিএনপির আট বিদ্রোহী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন এবং এটি নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ঐক্যকে দুর্বল করার অপচেষ্টা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এ দিকে রাজনৈতিক পর্যবেকরা মনে করছেন, এই বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে বিএনপির তিন প্রভাবশালী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন এবং এটি নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ঐক্যকে দুর্বল করার অপচেষ্টা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ময়মনসিংহ দণি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মোর্শেদ আলম। তিনি ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দল ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়, আদর্শ ও আন্দোলনের জন্য। কিন্তু কিছু নেতা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সাকে প্রাধান্য দেন। এর দায় দল নিতে পারে না।
দলীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত এসব নেতার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ‘বিদ্রোহী ভূমিকা’, গ্রুপিং রাজনীতি এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপোর অভিযোগ ছিল। মনোনয়ন ঘোষণার পর এসব অভিযোগ আরো স্পষ্ট আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দণি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তারা মূলত দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় টাঙ্গাইলে বিএনপির তিন নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলের বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। মূলত দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল করিম চুন্নুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। অপর দিকে রেজাউল করিম চুন্নু কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এই নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।