রক্তদহ বিল পুনঃখননে ১৭০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা

Printed Edition
bangla-5
বগুড়ার আদমদীঘি ও নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় অবস্থিত রক্তদহ বিল : নয়া দিগন্ত

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার আদমদীঘি ও নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা হলে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলটি বর্তমানে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত থাকায় ফসল উৎপাদন ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২০ হেক্টর আয়তনের রক্তদহ বিলকে ঘিরে ২৩টি গ্রাম গড়ে উঠেছে। এসব গ্রামের প্রায় সাত হাজার কৃষক পরিবারসহ অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিল এলাকায় ২২টি ইনলেট খাল রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার এবং আউটলেট খালের দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হয়ে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১২ মেট্রিকটন হিসাবে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫৪ হাজার মেট্রিকটন খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান, মুকুল হোসেন ও আমিনুল ইসলামসহ একাধিক কৃষক জানান, রক্তদহ বিল দু’টি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। নিয়মিত খনন না হওয়ায় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি কৃষকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিল পুনঃখনন হলে ফসলের পাশাপাশি মাছ উৎপাদনও বাড়বে এবং হাজারো কৃষক ও মৎস্যজীবীর জীবনমান বদলে যাবে। এ দিকে রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিলের আউটলেট রতনডারা খালের ওপর পাখি পল্লী ও মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক ভিড় করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, পাখি পল্লী উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা গেলে এ অঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়বে না, খননকৃত মাটি দিয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, খাল ও বিলের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো জানান, রক্তদহ বিল পুনঃখননের জন্য একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা।