বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের জন্য শিক্ষার আলো

Printed Edition
bangla-2
বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের জন্য শিক্ষার আলো

মো: রফিকুল ইসলাম বাবুগঞ্জ (বরিশাল)

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ এলাকায় বসবাসরত বেদে সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক শিশু দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে। তবে স্থানীয় দুই নারীর স্বেচ্ছাসেবীর উদ্যোগে তাদের জীবনে শিক্ষার আলো জ্বলতে শুরু করেছে। উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা- এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মীরগঞ্জ ফেরিঘাট সংলগ্ন নদীতীরে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ঘর কিংবা নৌকাই তাদের আশ্রয়। যাযাবর জীবনধারা ও জীবিকার তাগিদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোই তাদের বাস্তবতা। এর প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনে- দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সে বয়সেই তারা মাছ ধরা বা পারিবারিক পেশায় যুক্ত হয়ে যায়। অভিভাবকদের বেশির ভাগই নিরক্ষর হওয়ায় পরিবার থেকে শিক্ষার কোনো ভিত্তিও গড়ে ওঠে না। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন থেমে যায়।

এমন বাস্তবতায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। নিজেদের উদ্যোগে প্রতিদিন বিকেলে নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে প্রায় ৫০ জন বেদে শিশুকে এক ঘণ্টা করে পাঠদান করা হচ্ছে। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালিত এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বেদে নারী হেলেনা বিবি (৪০) বলেন, ‘আমাদের জীবনে সংগ্রামই বাস্তবতা। বাঁচার তাগিদে শিশুরাও কাজে সাহায্য করে। পড়াশোনার আগ্রহ থাকলেও সুযোগের অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ে। সরকার সহায়তা করলে আমাদের সন্তানরাও শিক্ষিত হতে পারে।’

উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই শিশুরা অন্তত প্রাথমিক শিক্ষাটুকু পাক। কিন্তু বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন বা কোনো সংস্থা সহায়তা করলে এই উদ্যোগ আরো বড় করা সম্ভব।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীতীরে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি ছোট্ট ঘর নির্মাণ করে দিলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করলে এই শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলাও সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: শামীম হোসেন বলেন, ‘দুই নারীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বেদে শিশুদের শিক্ষার জন্য প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, ‘বেদে সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অন্ধকারে থাকা বেদে শিশুদের জীবনে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। তবে এটি টেকসই করতে প্রশাসন, স্থানীয় সমাজ ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি- তবেই আলোকিত হতে পারে শিক্ষাবঞ্চিত এই বেদে শিশুদের ভবিষ্যৎ।