ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও ব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক মাওলানা মামুনুল হকের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাওলানা মামুনুল হক তার ভাষণে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের একটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রদত্ত এক বিশেষ ভাষণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার ও ব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার দলের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।

মাওলানা মামুনুল হক তার ভাষণের শুরুতে ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে শাপলা চত্বরের শহীদ এবং আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ সাম্প্রতিক বিপ্লবের বীরদের নাম উল্লেখ করে তিনি সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারের দাবি জানান।

রাষ্ট্রসংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতি সমর্থন : তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের খেলা নয়; বরং এটি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হওয়া উচিত। ২০২৪-এর বিপ্লবপরবর্তী রাষ্ট্রসংস্কারের প্রস্তাবনাসংবলিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রসংস্কার ছাড়া কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন অর্থহীন’।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা : মাওলানা মামুনুল হক বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য তার দলের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরেন :

তরুণ প্রজন্ম : কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

নারী অধিকার : ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্পদে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

প্রবাসী কল্যাণ : প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল সেবা কাঠামো, বিনা সুদে ঋণসুবিধা এবং বিমানবন্দরসহ সবপর্যায়ে হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কৃষি ও শ্রম : মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ মজুরি কাঠামোর কথা উল্লেখ করেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিক্ষাব্যবস্থা : তিনি ঘোষণা করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন ও সুন্নাহ হবে সর্বোচ্চ নির্দেশনা। খতমে নবুওয়ত অস্বীকারকারী কাদিয়ানি বা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম’ হিসেবে ঘোষণার অঙ্গীকার করেন তিনি। এ ছাড়া কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্থায়ী স্বীকৃতি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত ‘কওমি শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দেন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৬টি আসনে ‘রিকশা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অবশিষ্ট আসনগুলোতে নীতিগতভাবে সমমনা দলগুলোকে সমর্থন দেয়ার কথা জানান তিনি। পরিশেষে তিনি দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে এবং ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে শামিল হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।