ফেনীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের মিড টাউন রেস্টুরেন্টে জেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ২০০১ সালে নমিনেশন দিয়েছিলেন। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এমপি ছিলাম। আমি তখন ফেনীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ফেনী শহরকেও সাজিয়েছি। আমি দোকানপাট ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করেছি। পরে ২০০৯ সালে আপনাদের ভোটেই আমি আবার এমপি ছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাদক কারবার বেড়েছে অনেক। আরো অনেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। যারা মাদক কারবারের সাথে জড়িত তাদেরকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করুন।’
শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘এখন অনেক নেতা, চেয়ারম্যান, মেম্বার ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচার প্রাচরণা চালাচ্ছেন। আগে বলে দিচ্ছি, স্থানীয় নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চান তারা ফ্রেশ হোন। আগে নিজেরা ঠিক হয়ে যান। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে দেয়া হবে। যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রার্থী দেয়া হবে, অন্য কোনো বিবেচনায় নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে কোনো ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো যাবে না। ব্যক্তির কোনো ব্যানার-ফেস্টুন হবে না। দলের একদম কড়া নির্দেশনা।’
আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা নিঃসংকোচে চলাচল করতে পারছি। আগে যেখানে আমাদের বাসায় পুলিশ-বিডিআর ও আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে হয়রানি করতো, সেটা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।’
আলাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের এখানে একটা বিষয় এসেছে, স্থানীয় নির্বাচনে সব জায়গায় ১০ জন, ১৫ জন বা ২০ জন প্রার্থী। আসলে বিগত ২০ বছরে নির্বাচন না হওয়ায় একটা রাজনৈতিক সেশনজট তৈরি হয়েছে। ফলে এত প্রার্থী হয়েছে। সিনিয়রের সাথে জুনিয়রও তৈরি হয়েছে। তবে আশা রাখুন দলের প্রতি। দল যোগ্য ব্যক্তিকে নমিনেশন দেবে।’
অধ্যাপক এম এ খালেক বলেন, ‘আজকে প্রতি ইউনিয়নে ১০ থেকে ১৫ জন প্রার্থী। অথচ আমরা ইউনিয়নে পদযাত্রার সময় দু’জনও পাইনি। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন। এখন এত এত প্রার্থী। সব আবার ব্যক্তির প্রচারণা, দলের কোনো প্রচারণা নেই। ইউনিয়ন প্রার্থী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো একজনকে দিতে হবে। দল থেকে তাদের দেয়া হবে যাদের এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ত্যাগ আছে, কিন্তু এলাকায় আপনি জিতে আসতে পারবেন এমন তো নাও হতে পারে। এমন প্রার্থী দেয়া হবে যে জিতে আসতে পারবে এবং গ্রহণযোগ্য। তার জন্যই দলের সবাই কাজ করবে।’
গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে ফেনী বিএনপি নির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। অনেকে অনেক মামলার আসামি হয়েছেন। বিএনপি সরকার আসছে ছয় মাস, এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল। কিন্তু দুই বছরেও এখনো আমাদের সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো সব হত্যা মামলা। আমরা আগে চাই, এসব মামলা যেন দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়।’
আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘ছাত্রদলের দীর্ঘ নয় বছর ধরে কমিটি নেই। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রদল হাহাকার করছে। আমরা এখানে বলতে চাই, ফেনী জেলা ছাত্রদলের কমিটি যেন পুনর্গঠন করা হয়। পাশাপাশি ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ছয় মাসের বলে এখনো আমরা নতুন কমিটি পাইনি। আমরা জেলা বিএনপির কমিটিও দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে আমরা ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই। যারা ১৭ বছর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন চাই। আর আমি বলতে, আমরা ত্যাগী নেতাদের পাশে শেষ পর্যন্ত থাকতে চাই।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক, গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, কৃষক দলের জেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন, মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি ও জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সরোয়ার জাহান শ্রাবন।