আজ বিপিএল ফাইনাল
১৩ বছরের আক্ষেপ ঘুচবে কি চট্টগ্রামের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিপিএলের দ্বাদশ আসর শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে চট্টগ্রাম ফ্রাঞ্চাইজির সাথে যা ঘটেছে তা কল্পনাকেও হার মানাবে। হুট করেই দলের মালিকানা ছেড়ে দেয়া, কোচ ও ম্যানেজমেন্টের ঠিক-ঠিকানা না থাকা, বিদেশী খেলোয়াড় চূড়ান্ত না করা, লজিস্টিক কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকা এবং সর্বশেষ খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে অনিশ্চয়তায় চট্টগ্রামের বিপিএলে মাঠে নামাই ছিল তীব্র ঝুঁকির মধ্যে। অথচ সেই দলটিই প্রথম দল হিসেবে বিপিএলের ফাইনালের মঞ্চে। বিসিবি দলটির দায়িত্ব নেয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ দিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকে কোয়ালিফায়ার ওয়ানে ৬ উইকেটে হেরে যায় চট্টগ্রামের কাছে। উভয় দলটি আজ লড়বে শিরোপা মঞ্চে। পরম আরাধ্য বিপিএল ফাইনাল। শেরেবাংলায় ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
শিরোপা থেকে চট্টগ্রাম এক পা দূরে। বিপিএলে এর আগে চট্টগ্রাম কখনো শিরোপা জেতেনি। গত আসরেও চট্টগ্রামের একটি ফ্রাঞ্চাইজি ফাইনাল খেলেছিল। শিরোপার দেখা পায়নি। মাহেদী, শরিফুলদের হাত ধরে কি ১৩ বছরের অপো ফুরাবে চট্টগ্রামের। এ দিকে ২০২০ বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালস নামে ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে একবার শিরোপা জিতেছে। এবার তারা মুখিয়ে থাকবে শিরোটা পুনরুদ্ধারের।
ফাইনাল ম্যাচ, প্রত্যেক প্লেয়ার চ্যালেঞ্জিং। সবাই পারফর্ম করছে বলেই চ্যালেঞ্জিং, উভয় দলের একই পরিকল্পনা। যে ভালো ক্রিকেট খেলব সে এগিয়ে যাবে। কোয়ালিফায়ারে কেউ ভালো খেলছে বলে যে ফাইনালে ভালো খেলবে সেটি গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না। পুরোপুরিই নির্ভর নির্দিষ্ট দিনের ওপর। চট্টগ্রাম রয়্যাল ছিল পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে, শীর্ষে ছিল রাজশাহী। সেই দুই দলই উঠেছে ফাইনালে। লিগ পর্বে দু’বার দেখা হয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের। প্রথম দেখায় ২ উইকেটের জয় পায় চট্টগ্রাম। ফিরতি লেগে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী। লিগ পর্ব ও কোয়ালিফাইয়ার মিলিয়ে রাজশাহীর বিপে তিনবারের দেখায় দু’বার জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম।
ফাইনাল ম্যাচের আগে অধিনায়কদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মাহেদী জানিয়েছেন, ‘বিপিএলে রাজশাহী অন্যতম সেরা দল। ওয়েল ব্যালান্সড। পুরো আসরে ভালো ক্রিকেট খেলে এসেছে। রংপুরও ভালো ছিল। দুর্ভাগ্যজনক তারা ফাইনালে যেতে পারেনি। রাজশাহী ওয়ান অব দ্যা বেস্ট টিম। আমরা তিনটি ম্যাচ খেলেছি তাদের সাথে, তাদের ইন-আউট জানা আছে। ভালো খেললে ফলাফল পে আসতে পারে।’
ফাইনালে টস হয়ে উঠতে পারে বড় নিয়ামক। তা মানছেন দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসনে শান্ত ও মাহেদী, ‘অবশ্যই, রাতের ম্যাচে টস অনেক বড় ইস্যু। টস জিতলে মানসিকভাবে ১০ শতাংশ এগিয়ে গেলেন। উইকেটও একটি বিষয়, সাথে শিশির ফ্যাক্টর। ফাইনাল ম্যাচ ফাইনাল ম্যাচের মতোই হবে। খেলায় টুইস্ট থাকবে, এক্সাইটমেন্ট থাকবে। টাফ কম্পিটিশন হতে পারে।’
অধিনায়কদ্বয় আরো জানান, ‘ফাইনালে যেহেতু উঠেছি শিরোপার স্বপ্ন কেন দেখব না? অবশ্যই দেখবে সবাই। আগামীকাল (আজ) দিনটি যাদের থাকবে, সব বিভাগে ভালো খেলবে তারাই শিরোপা জিতবে। শিরোপার জন্য সবাই ক্ষুধার্ত, সবাই জিততে চায়।’
অধিনায়ক মাহেদী জানান, ‘যুদ্ধেেত্র আপনি যখন নামবেন, আপনার যেইগুলা আছে, সেগুলা দিয়েই তো উজাড় করে লড়বেন। দলগতভাবে আমরা যেভাবে খেলেছি, আমাদের হয়তোবা কোনো বড় নাম নেই। ভালো বিদেশীও নেই। স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যেও তেমন বড় নাম নেই। কিন্তু ছেলেরা যেভাবে পারফর্ম করেছে, একটা দল না হয়ে খেললে অনেক কিছুই সম্ভব। বিসিবি দায়িত্ব নেয়ায় আর্থিক চাপ কমে গিয়েছিল। সবাই স্বাধীনভাবে নিশ্চিন্তমনে খেলতে পেরেছে। এ জন্য পারফর্মটাও বেশি করেছে।’