নৈতিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান

‘দ্য রোল অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি’ শীর্ষক আলোচনা সভা

Printed Edition
3rd-4
‘দ্য রোল অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশকে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে নৈতিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং মানবকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি সচেতন, সংগঠিত ও দায়িত্বশীল সিভিল সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

তারা বলেন, কেবল সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সিভিল সোসাইটিকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)-এর উদ্যোগে গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আয়োজিত ‘দ্য রোল অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ এবং মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. মুহাম্মাদ আবদুল বারী।

আলোচনায় অংশ নেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক ড. শামসুদ্দীন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভোকেট মো: মুজিবুর রহমান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: আইয়ুব হোসেন, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: জসিম উদ্দিন।

মূল আলোচনায় ড. মুহাম্মাদ আবদুল বারী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সিভিল সোসাইটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার একটি কার্যকর মধ্যস্থ কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তবে বাংলাদেশে নৈতিক নেতৃত্বের সঙ্কট, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় শক্তিশালী ও সংগঠিত সিভিল সোসাইটি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম ও অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. মুহাম্মাদ আবদুল বারী আরো বলেন, প্রতিটি খাতে যোগ্য, সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমী নাগরিক গড়ে তোলা গেলে একটি জনবান্ধব ও টেকসই সমাজ নির্মাণ সম্ভব। দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যা উদার, ভিন্নমত সহিষ্ণু এবং আত্মকেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, নৈতিক নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিভিল সোসাইটি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। একই সাথে সমাজে নৈতিক কর্তৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তারা বলেন, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিভিল সোসাইটিকে আরো সংগঠিত, গবেষণানির্ভর ও নীতিমুখী ভূমিকা পালন করতে হবে। গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ, নীতিগত প্রস্তাবনা এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থার সংস্কারে কার্যকর অবদান রাখতে পারলেই সিভিল সোসাইটি দীর্ঘ মেয়াদে গণতন্ত্র, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) একটি গবেষণা ও চিন্তাকেন্দ্র (থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক), যা ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, অনুবাদ, প্রকাশনা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততায় চিন্তাজগতের গোঁড়ামি ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা দূর করে জ্ঞানের একীকরণে বিআইআইটি দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।