মহানবীর আদর্শে দেশ চালাবে বিএনপি : সিলেটে তারেক

Printed Edition
Font Photo-3
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় বক্তৃতা করেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

- একটি দল বেহেশত দেয়ার নামে মুসলমানদের শিরক ও কুফরি শেখাচ্ছে

- যারা ’৭১ সালে মা-বোনদের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে

সিলেট ব্যুরো

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে মহানবী সা:-এর আদর্শ মোতাবেক দেশ পরিচালনা করা হবে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কাবা শরিফ, বেহেশত ও পৃথিবীর মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহতায়ালা। অথচ একটি দল নির্বাচনের আগে আপনাদের বেহেশত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যা দেয়ার মালিক আল্লাহ, সেটা দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনের আগেই মানুষকে ঠকাচ্ছে। এরা মতায় গেলে পুরো দেশটাকে ঠকাবে। এই দল মুসলমানদের শিরক ও কুফরি শেখাচ্ছে। এই কুফরি, মিথ্যা ও হঠকারিতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি গতকাল বেলা ১টায় সিলেট নগরের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা উপলে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যারা বলে অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। তাদের ’৭১ সালের ইতিহাস জনগণ জানে। তারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি। লাখ লাখ মা-বোনকে হত্যা করে ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে। তাদের ব্যাপারে সজাগ হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, পরাজিত শক্তি দিল্লি পালিয়ে গিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। ওদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের ভেতরেও একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আপনারা দেখেছেন, কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যে পোস্টাল ব্যালট ফেলে রাখা হয়েছে। এই গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।

২৪ এর গণ-আন্দোলনে সিলেট শহরে ১৪ জন প্রাণ দিয়েছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ইলিয়াস আলী, দিনার ও জুনায়েদসহ সিলেটের অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের মুক্ত করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও আপনাদের সিলেট শহরে ১৪ জন মানুষ প্রাণ দিয়েছে। একটি কুচক্রী মহল দেশের ভেতরও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষ প্রমাণ দিয়েছে, কিভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।

বিএনপি মতায় গেলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলতে পারে, মতায় গেলে সেটা নিশ্চিত করবে বিএনপি। শুধু ভোটের অধিকার নয়, বিএনপি দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আমলে মানুষকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বিদেশে পাঠানো শুরু হয়। নারীদের শিতি করতে নানা পদপে নেয়া হয়। আগামী নির্বাচনে মতায় গেলে সেটা নিশ্চিত করবে বিএনপি।

বিগত ১৫ বছর তথাকথিত উন্নয়নের নামে মানুষের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াতে চাই। নির্বাচনে বিজয়ী হলে শহীদ জিয়ার খাল খনন করব। নদীতে পানি নিয়ে আসব। আপনারা দেখেছেন, ক’বছর আগে একটি দেশের নদীর ছেড়ে দেয়া পানিতে সিলেট শহর ডুবে গিয়েছিল। আপনারা বিগত সময়ে দেখেছেন কিভাবে একটা দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেয়া হয়েছে। তাই আমি বলি, দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপির স্লোগান টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। তবে এটা এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ১২ তারিখের ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করে টেইক বাংলাদেশ অর্জিত হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৫ বছর দেখেছি, কিভাবে রাতের ভোট হয়েছে, কিভাবে ভোট চুরি করা হয়েছে, কিভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানে সেই চোরেরা পালিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, এই যে লাখো মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে। ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ বহু মানুষকে গুম করেছে। পালিয়ে গিয়েছে যারা, তারা এই দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

মতায় গেলে নারীদের উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা নারীদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যে কার্ড আপনার পরিবারে সহায়তা হবে। তাই সহযোগিতা পেতে হলে নারীদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। বেগম জিয়া নারীদের শিার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা শিতি মা-বোনকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।

সরকারে গেলে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটের অধিকাংশ মানুষ বিদেশে যায়। তাদেরকে প্রশিণ দিয়ে দ করে গড়ে তুলতে চাই। সেটা একমাত্র সম্ভব, যখন ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।

বেকারদের প্রশিণ দিয়ে দ করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচিত হলে সরকার থেকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যাতে দ হয়ে আমাদের যুবকরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জনসভায় ভাষণ দানকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। এই অধিকার আদায়ে বিলেত থেকে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। ডা: জুবাইদা রহমানও আমাদের পথ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু মাথা নত করেনি।

এই সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, সাইফুর রহমানের মতো গুণীজন জন্ম নিয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির লড়াই দীর্ঘ।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। তারা ভোট পাবে না। তারা এ দেশের বিরোধী, তারা নাকি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী দল থেকে দেশবাসীকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহবান জানান।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী মানেই সিলেট বিভাগের উন্নয়ন। তারেক রহমান মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালিক বলেন, আগামী নির্বাচনে সিলেটের প্রতিটি আসনে ধানের শীষে ভোট দেবেন। তারেক রহমানকে আমরা প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী দিনের ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনের যুদ্ধ দেশকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনা। আগামী দিনের যুদ্ধ আইনের শাসন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সিলেটে পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সিলেটে আইটি হাব গড়ে তোলা হবে। আগামী দিনে সব কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা হবে। সেটা শুরু করে দিয়ে গেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এ ছাড়া সিলেটে শাক সবজি রফতানির হাব গড়ে তোলা হবে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রবাসীদের নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে বিএনপি। তাই আপনারা দেশে বিনিয়োগ করুন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে উপহার দেয়া হবে। তিনি সিলেটবাসীকে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান।

বিএনপির উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্যই ইলিয়াস আলীসহ বহু মানুষ গুম হয়েছে। নির্যাতনের পরীায় আপনারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

সিলেট জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালিক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক এমপি শাম্মি আক্তার, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ সালাম প্রমুখ।

জনসভায় সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী ও জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

শ্বশুর বাড়িতে তারেক রহমান : আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হজরত শাহজালাল রহ: ও শাহপরাণ রহ:-এর মাজার জেয়ারত করে দণি সুরমার এই বিরাহিমপুর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম। আমার শ্বশুরবাড়ি এই এলাকায়, সুতরাং জুবাইদার মতো আমিও আপনাদের এলাকারই সন্তান। আপনাদের সন্তান হিসেবে বলব, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে এই বিরাহিমপুর তথা দণি সুরমা থেকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

তিনি বুধবার রাত আড়াইটার দিকে শ্বশুরের পৈতৃক বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এ কথা বলেন।

তরুণদের ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তরুণদের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষের প।ে বিএনপি কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিচ্ছে, সেটা বাস্তবায়নে তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে দেশের সব মানুষ এই সুবিধা ভোগ করতে পারে। আল্লাহ যাতে আমাদের রহমত দেন, আমরা কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি।

মতায় গেলে বিদেশগামী তরুণ যুবকদের প্রশিণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই সিলেট অঞ্চলের বহু মানুষ ইউরোপ আমেরিকায় ছড়িয়ে আছেন। আমরা মতায় গেলে বিদেশগামীদের প্রশিণ দেবো, ভাষা শিারও প্রশিণ দেয়া হবে, যাতে আরো বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারে।

বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিস্টরা আপনাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবার ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছেন আপনারা, তাই ধানের শীষে আপনাদের ভোট হোক।

মতায় গেলে জিয়াউর রহমানের খাল খনন আবার শুরু করার পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার খালখনন কর্মসূচি আবার শুরু হবে। এখানে কোনো মুরব্বি আছেন, যিনি শহীদ জিয়ার খালখনন কর্মসূচি দেখেছেন? উপস্থিত একজন দেখেছেন বলে জানালে তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার সেই খালখনন আমরা করব। এতে কৃষকরা উপকৃত হবে।

শ্বশুরালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

মৌলভীবাজারে প্রথম জনসভায় তারেক রহমান

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে বাঁচাতে হলে আগামী মাসের ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। সেই ত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে কোথায় সিল মারতে হবে? ধানের শীষেই সিল মারতে হবে।

দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে হবে, মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র ধানের শীষই সেই নিশ্চয়তা দিতে পারে।

গতকাল বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুরের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপির আহবায়ক মো: ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌউছ, মিফতাহ উদ্দিন সিদ্দিকি।

বিএনপির চেয়ারম্যান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রায় দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি মতায় গেলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে, যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

নারীদের উন্নয়নে বিএনপি কাজ করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। পরিবারের মায়েদেরকে এই কার্ড দেয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে খাদ্যসহায়তা বা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। তাদের সংসার সুন্দরভাবে চালাতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেবো। কৃষকদের উন্নয়নে আমরা কৃষিকার্ড প্রদান করব। এই কার্ডের মাধ্যমে তাদেরকে ঋণ, সার, বীজ ও বীমা সহায়তা দেবো। যাতে তাদের বিপদের সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মসজিদের খতিব ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের প থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে মসজিদের খতিব ইমাম মুয়াজ্জিনরা সম্মানের সাথে এ সমাজে বসবাস করতে পারেন।

তারেক রহমান কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই বলেন, একটি বিশেষ দলের জন্য বিএনপির চেয়ে তিন গুণ বেশি প্রটোকল দেয়া উচিত।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ এখন বুঝতে পারছে কারা বিভ্রান্ত করছে। এতে জনমনে ােভ তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই না সেই ােভ থেকে কোনো অনাকাক্সিত ঘটনা ঘটুক। তাই অনুরোধ থাকবে- যাদের প্রয়োজন, তাদের প্রটোকল বিএনপির তুলনায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়া হোক।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু।

তারেক রহমান আরো বলেন, একসময় দেশে নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। একবার আমি ডামির নির্বাচন, আরেকবার নিশি রাতের নির্বাচন এবং ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে। একটির পর একটি তথাকথিত নির্বাচন হয়েছে। জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। যেই দলটি পালিয়ে গেছে এরা গত ১৫ বছর মানুষের ভোটের অধিকার দেয়নি। কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে হয় তাকে গুম করতো না হয় তাকে মিথ্যা মামলা দিত।

জনসভায় জেলার সাতটি উপজেলা থেকে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই শেরপুরের আইনপুর মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন পর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। এই জনসভায় তারেক রহমান জেলার চারটি আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে ২০০৫ সালে মৌলভীবাজারে প্রথম আসেন তারেক রহমান।