সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান

চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুসাব্বিরকে হত্যা, নির্দেশদাতা দীলিপ, শুটার রহিম

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া অন্যতম শুটার মো: রহিমকে নরসিংদী থেকে অস্ত্র গুলিসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মিন্টুু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগঁাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ জানুয়ারি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে দু’টি বিদেশী পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলিসহ শুটার রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, কাওরান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত ৮ থেকে ৯টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সেখানের দখল বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।

এ ঘটনার পেছনে বিনাশ নামে একজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। যিনি দেশের বাইরে থাকেন। তার নামেও চাঁদা তোলা হয়। এ বিনাশের অর্থায়নে মোসাব্বির হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীলিপ ওরফে বিনাশ এমন একটি নাম এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যে আসামিগুলো ধরা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছেন। ওদের কথায়ও উঠে এসেছে, দাদা আছে, দাদা দেখবে। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তার নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, গ্রেফতাররা ভাড়াটে, আবার তারাও কাওরান বাজারে চাঁদাবাজিতে জড়িত এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে যাচ্ছে। তারা দুইজনই গুলি করেছে। বিনাশ কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। তিনি দেশের বাইরে আছেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, সামনে নির্বাচন, এ মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য অনেকে তৎপর আছে। এ মাসে আমরা সর্বাধিক সংখ্যক প্রায় ১৩টির মতো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছি। অন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এর আগে, ১১ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো: রিয়াজ (৩১) ও মো: বিলালকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার নরসিংদী থেকে আরেকজন কথিত শুটার রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো। তোদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।