দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা জামায়াতের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াত দেশের বাড়তে থাকা শিতি বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সঙ্কট এবং প্রযুক্তিনির্ভর শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবেলায় তরুণদের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দ জনশক্তি তৈরি, চাকরির সংযোগ বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ফ্রিল্যান্সিং খাত সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে একাধিক উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। জামায়াত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের কর্মবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দতা উন্নয়নকে এক ছাতার নিচে আনতে দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য একটি নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পে ছড়িয়ে থাকা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান উদ্যোগগুলো সমন্বয়হীন। নতুন মন্ত্রণালয় হলে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সহজ হবে।
৫ বছরে ১ কোটি তরুণের স্কিল প্রশিক্ষণ
প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রশিক্ষণগুলো হবে চাহিদাভিত্তিক-আইটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি-প্রসেসিং, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণশিল্প, পর্যটন ও রফতানিমুখী খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় ২০-২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। এদের বড় অংশের দক্ষতার সাথে বাজারের চাহিদার মিল নেই। ফলে ডিগ্রি থাকলেও চাকরি মিলছে না। এই ‘স্কিল গ্যাপ’ কমাতে বড় পরিসরের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’
ডিজিটাল দতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করা হবে। এখানে থাকবে কম্পিউটার, হাই-স্পিড ইন্টারনেট, কোডিং ট্রেনিং, স্টার্টআপ সাপোর্ট, ফ্রিল্যান্সিং গাইডেন্স ও ইনোভেশন সাপোর্ট।
গ্রাম ও মফস্বলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে বড় সুযোগ। বর্তমানে প্রযুক্তি শেখার সুবিধা প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। টেক ল্যাবগুলো চালু হলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক : ৫০ লাখ চাকরির সংযোগ
কর্মসংস্থানের ডেটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করা হবে। এটি হবে এক ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি সংযুক্ত থাকবে। পাঁচ বছরে ৫০ লাখ তরুণের জব এক্সেস নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে চাকরির সুযোগ থাকলেও তথ্যের অভাবে অনেক তরুণ তা জানতে পারেন না। একীভূত জব ব্যাংক হলে এই সমস্যা কমবে।
উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে জোর
চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়ে নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ, স্টার্টআপ তহবিল, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের সহায়তা দেয়া হবে।এ ছাড়া বৈদেশিক আয় বাড়াতে ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হলেও তা সম্ভাবনার তুলনায় কম। প্রশিক্ষণ ও পেমেন্ট অবকাঠামো উন্নত হলে এই খাত দ্রুত বাড়তে পারে।
স্বল্পশিক্ষিতদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম
সবাইকে সমান সুযোগ দিতে স্বল্পশিক্ষিত ও ঝরে পড়া যুবকদের জন্য আলাদা স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এতে কারিগরি, হস্তশিল্প, সার্ভিস-ভিত্তিক ও স্থানীয় অর্থনীতিনির্ভর কাজ শেখানো হবে। যাতে শুধু ডিগ্রিধারীরাই নয়, প্রান্তিক যুবকরাও আয়ের পথ পায়।
তরুণদের সংখ্যা ও সম্ভাবনার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সময় পার করছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারকদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি ও কর্মবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।