প্রবাস থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট শুরু, শেষ সময় ২৫ জানুয়ারি

ফোনে ভোটের খামটির গতিবিধি দেখা যাবে, পাসওয়ার্ড কাউকে দেয়া যাবে না

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য এই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের ভোট দেয়ার কার্যক্রম শুরু করে। নতুন নিয়মে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যারা ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা দারুণ খুশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এবার সৌদি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের যেসব দেশের প্রবাসীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছেন তারাই শুধু পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারছেন।

গতকাল কুয়েত সিটির সাফাত অঞ্চলে অবস্থানরত দোহারের বাসিন্দা মো: জালাল উদ্দিন নয়া দিগন্তকে এই প্রসঙ্গে বলেন, আমরা শেষ করে বাসায় ফিরে গোসল, খাওয়া শেষ করেছি। এখন ভোট দিয়ে নির্ধারিত পোস্ট অফিসে থাকা বাক্সে ফেলে আসবো। তিনি বলেন, আমার পোস্টাল ব্যালট হাতে পাইনি। তবে আমার রুমমেট সাইফুল ইসলাম পোস্টাল ব্যালট পেয়েছে। একটি খামের ভেতরে আরো দুটি খাম রয়েছে। একটি গণভোটের। অপরটি প্রতীক মার্কার। সাইফুল নোয়াখালী-২ আসনের ভোটার। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সরকার এই প্রথম বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোট দেয়ার সুযোগ দিয়েছে। এতে আমরা মহা খুশি। মনে হচ্ছে ঈদের মতো আনন্দ। তিনি বলেন, আজ থেকে ভোট দেয়া শুরু হলো। এখন আমরা যারা ভোট দেবো তাদেরকে ফিরতি খাম পোস্ট করার জন্য কোনো প্যামেন্ট করতে হবে না। এই টাকা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। আমরা শুধু বক্সে ফেলে আসবো।

গত ২১ জানুয়ারি কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন গণভোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের নিমিত্তে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে যে সব ভোটার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন তারা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ ছাড়াও কুয়েতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের লিংকের (দূতাবাসের ওয়েবসাইট) মাধ্যমেও তাদের ব্যালট ট্র্যাকিং করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে প্রদত্ত ট্র্যাকিং নম্বর কপি করে লিংকে কিক করে প্রাপ্ত খালি ঘরে পেস্ট করার মাধ্যমে ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট বর্তমানে কুয়েতের কোন পোস্ট অফিসে অবস্থান করছে তা নিশ্চিত হয়ে সংগ্রহ করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। এ দিকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো: রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠানোর জন্য। ভোটারদের প্রদত্ত ভোট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট যথাসময়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এই আহ্বান জানিয়েছে। অপর দিকে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিবন্ধন শেষে মালয়েশিয়ার ঠিকানায় ডাকযোগে খাম পাঠানো হবে। ওই খামে থাকবে পোস্টাল ভোটের জন্য নির্দেশনাবলী, ঘোষণাপত্র, সাদা রঙের পোস্টাল ব্যালট খাম ও ব্যালট পেপার এবং হলুদ রঙের ফেরত খাম।

যেভাবে ভোট দেয়া যাবে : ব্যালট পেপার পাওয়ার পর মোবাইল ফোনে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে লগইন করতে হবে। ডাকযোগে প্রাপ্ত সাদা রঙের খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। মুখমণ্ডলের বাম এবং ডান পাশের ছবি তুলে সজীবতা পরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রতীক বরাদ্দের তারিখের পর থেকে মোবাইল অ্যাপে ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হবে। অ্যাপে পছন্দের প্রতীকে কলমের কালি দিয়ে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে। ব্যালট পেপারে প্রতীক থাকবে ছবি থাকবে না। ভোট দেয়ার পর ডাকযোগে পাওয়া ঘোষণাপত্রে নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে পাঠানো সাদা রঙের ব্যালট খামের ভেতরে একত্রে ভরতে হবে। এর পর পাঠানো হলুদ রঙের ফেরত খামের ভেতর সাদা খামটি ভরে খামটি বন্ধ করতে হবে এবং যে কোনো পোস্ট অফিসে দ্রুত জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটারদের কোড অথবা পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।