বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে চায় নেপাল ও ভুটান
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।
গতকাল নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করে এ কথা জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূতরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে শক্তিশালী, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা বিএনপি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন এবং সংস্থাটিকে পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারির সাথে বৈঠকে শামা ওবায়েদ নেপালের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশটির সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সংযোগ, শিক্ষা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সাথে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য, জ্বালানি, সংযোগ, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কুড়িগ্রামে ভুটানের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে ভুটানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।