আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখার পরিকল্পনা ছিল ঘাতক মুন্নির

Printed Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়ায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি। গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে মুন্নি এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জনিকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার পরিকল্পনা ছিল মুন্নির। এই উদ্দেশ্যে দুই দিন আগেই তিনি নিজের বাসার ডিপ ফ্রিজের সব মালামাল আগের সংসারের ছেলের বাসায় সরিয়ে নেন। তবে ২৯ জুন ভোররাতে স্বামীকে হত্যার পর অতিরিক্ত রক্ত দেখে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।

জবানবন্দীতে মুন্নি জানান, ঘটনার রাতে জনি বাসায় ফেরার পর তাকে কোমল পানীয়ের সাথে পাঁচ-ছয়টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। জনি পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত এবং এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করেন মুন্নি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে জনির হাত ও পায়ের রগও কেটে দেয়া হয়। এরপর ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে আগের সংসারের ছেলের বাসায় নিয়ে যান এবং ঘটনাটি ‘ডাকাতি’ বলে চালিয়ে দেয়ার ফন্দি আঁটেন। সকাল ৮টার দিকে প্রতিবেশীদের ডেকে ডাকাতির গল্প বলা শুরু করলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা মুন্নিকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন এবং তার দেয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

এ দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত জনির মা জাহানারা বেগম বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি মুন্নি ছাড়াও তার আগের সংসারের ছেলে সৈকত, মেয়ে হাফসা, মা আমেনা বেগম, ভাই লিংকনসহ অজ্ঞাতনামা আরো দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মুন্নির সাবেক স্বামী ছিলেন এক তৈরী পোশাক ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে সৈকত ও হাফসা নামের দু’টি সন্তান রয়েছে। তবে মুন্নি পরের সাবেক স্বামীর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম জনির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং আগের সংসার ছেড়ে জনিকে বিয়ে করেন। জনি বর্তমানে সোনারগাঁও হোটেলের স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাদের দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। জনির উপার্জিত টাকা দিয়ে দেলপাড়ায় ৪ শতাংশ জমির ওপর একটি একতলা বাড়ি করা হয়, যা মুন্নির নামে রেজিস্ট্রি ছিল।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই বাড়ির ওপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ করে তা মুন্নির আগের সংসারের সন্তানদের দেয়ার জন্য জনিকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেয়া হচ্ছিল। এই জমি ও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, মুন্নি ও তার ছেলে সৈকত এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।