ফিরে দেখা জুলাই ’২৪

ক্ষতচিহ্নের মধ্যে নতুন সমাবেশের প্রস্তুতি, শোক থেকে সংগঠিত প্রতিরোধ

Printed Edition
জুলাই
ক্ষতচিহ্নের মধ্যে নতুন সমাবেশের প্রস্তুতি, শোক থেকে সংগঠিত প্রতিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ২৭ জুলাই ছিল জুলাই আন্দোলনের এক সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কারফিউ ও ব্যাপক প্রাণহানির পর দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে জনজীবন সচল হওয়ার চেষ্টা চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ দিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য বড় কর্মসূচির পরিবর্তে ছোট ছোট পরিসরে যোগাযোগ, সমন্বয় এবং পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে মনোযোগ দেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন ও অফলাইনে সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। নিহতদের তালিকা সংগ্রহ, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা এবং আটক ব্যক্তিদের খোঁজ নেয়ার উদ্যোগও জোরদার হয়।

অন্য দিকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বজনদের বাড়িতে চলতে থাকে শোকের মাতম। অনেক পরিবার তখনো নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান করছিল। আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং দাফন সম্পন্ন করার ব্যস্ততা ছিল অনেক পরিবারের জন্য নির্মম বাস্তবতা।

দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রাণহানি, বলপ্রয়োগ ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরো জোরালো হতে থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং সংলাপের আহ্বান জানায়।

২৭ জুলাই ছিল মূলত পুনর্গঠন ও প্রস্তুতির দিন। রাজপথে উত্তেজনা আগের কয়েক দিনের তুলনায় কম থাকলেও আন্দোলনের সংগঠন, জনসমর্থন ও ন্যায়বিচারের দাবি আরো সুসংহত হতে শুরু করে। এই নীরব প্রস্তুতিই পরবর্তী সপ্তাহে আন্দোলনকে নতুন গতি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।