বর্ষায় জমে উঠেছে কালীগঞ্জের নার্সারি ব্যবসা
Printed Edition
রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
বাংলার ঋতুচক্রে বর্ষাকাল মানেই বৃক্ষরোপণের সর্বোত্তম ও উপযুক্ত সময়। তাই চারা বিক্রির প্রধান মৌসুম হিসেবে গণ্য হয় বর্ষাকাল। ভরা মৌসুম ঘিরেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ ও জোর কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নার্সারিগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, চলতি বর্ষা মৌসুমে এখানে কোটি টাকার বেশি চারা বেচাবিক্রি হবে।
উপজেলার বাণিজ্যিক নার্সারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, কেউ নতুন চারা বস্তা ও পলিব্যাগে প্রতিস্থাপন করছেন, আবার কেউ পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারার চালান পাঠাতে ব্যস্ত। ত্রিলোচনপুর, হরিগোবিন্দপুর, চাপালি ও কাশিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এক থেকে পাঁচ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে সবুজে ঘেরা শত শত নার্সারি। বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারে ছড়িয়ে থাকা এসব নার্সারিতে আম, কাঁঠাল, জামের পাশাপাশি সিডলেস লেবু, রামবুটান, অ্যাভোকাডোসহ ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির বিদেশী ফলের চারা উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি এলাচ, লবঙ্গ ও গোলমরিচের মতো দামি মসলা এবং নানা বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারাও বিক্রি হচ্ছে।
আবিদ নার্সারির মালিক মাসুদুর রহমান জানান, কেবল বর্ষা মৌসুমেই কালীগঞ্জের নার্সারিগুলোতে প্রায় ১০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। উদ্যোক্তা অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক কৃষিবিদ শাকিল হোসেন বলেন, বর্ষায় চারার বেচাকেনা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এখান থেকে চারা সংগ্রহ করেন। আরেক নার্সারি মালিক টিপু সুলতান জানান, তাদের উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মালয়েশিয়ায় রফতানি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি খাত ও অর্থনীতিতে এই শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শত শত পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখছে। উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে নার্সারি গড়ে তুললে নতুন উদ্যোক্তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারেন।