চার বছরেও সংস্কার হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক
দুর্ভোগে দোয়ারাবাজারের তিন ইউনিয়নের মানুষ
Printed Edition
সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের পানাইল ‘ডরেরপাড়’ সড়কটি ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়ার চার চারটি বছর পার হলেও এখনো সড়কটির পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে উপজেলার দোহালিয়া, পাণ্ডারগাঁও ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৬ জুনের ভয়াবহ বন্যায় ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানাইল ‘ডরেরপাড়’ সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। এতে তিন ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদর, জেলা শহর সুনামগঞ্জ এবং বিভাগীয় শহর সিলেটের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বন্যার ঠিক আগে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই বন্যায় সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে সেখানে খালের সৃষ্টি করে। পরে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেখানে আরো প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
২০২৫ সালের শুরুতে জামান মিনু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। এলজিইডির দাবি, নদীর তলদেশে অতিরিক্ত গর্ত ও প্রবল স্রোতের কারণে কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং তাদের ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন সুমন বলেন, ২০২২ সালের আগে নতুন সড়ক হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বন্যায় সেটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। চার বছরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিলেও পানাইল ‘ডরেরপাড়’ সড়কের ক্ষেত্রে সেই উদ্যোগের বাস্তব কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও নতুন করে কাজ শুরু করতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনদুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ বলেন, সড়ক ও সেতুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। কাজ শুরু হলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।