কিশোরগঞ্জে শ্রান্তিবিনোদন ভাতা বিতরণে অনিয়ম
Printed Edition
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের শ্রান্তিবিনোদন ভাতা বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোনো কোনো শিক্ষককে একাধিকবার ভাতা দেয়া হলেও বঞ্চিত হয়েছেন অনেক শিক্ষক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শ্রান্তিবিনোদন ভাতা বাবদ ৬১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি বছরের ১৯ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে ১১৮ জন ও ১৬৭ জন শিক্ষককে এ ভাতা দেয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় ও নীতিমালা অনুসরণ না করে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। বড়ভিটা ঘোনপাড়া জবান উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোছা: মোর্শেদা বেগমকে ২০২৩-২৪ ও ২০২৬ সালে ধারাবাহিকভাবে ভাতা দেয়া হয়েছে। একইভাবে ভেরভেরী মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লিটা আক্তার, ১ নম্বর চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেবাশীষ রায়সহ কয়েকজন শিক্ষক পরপর দুইবার ভাতা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, হিসাব সহকারী নাছরীন আক্তারের সাথে মোর্শেদা বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তাকে নিয়মের বাইরে সুবিধা দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মেলাবর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুন্নি আক্তার ২০২৫ সালের আগস্টে স্বামীর কর্মস্থল ভোলা জেলায় বদলি হওয়ার পরও ভাতা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভেরভেরী মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিটা পারভীন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ভাতার টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে মোর্শেদা বেগম কিভাবে একাধিকবার ভাতা পেলেন- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে চাননি তিনি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা: মাহমুদা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন অফিসের বাইরে আছি। আগামীকাল অফিসে এলে কথা বলব।’