৯ কিমি সড়ক যেন ‘মরণ ফাঁদ’
Printed Edition
আব্দুর রাজ্জাক ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াজুরী-ঘিওর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভয়াবহ খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এখন অবস্থা এমন যে, রাস্তাটি যেন কার্যত ‘দুর্ঘটনার ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বানিয়াজুরী থেকে ঘিওর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কোথাও পিচ নেই, কোথাও গভীর খাদ, আবার কোথাও পানি জমে থাকায় রাস্তার প্রকৃত অবস্থা চালকদের জন্য বুঝতে কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বালিয়াখাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়কের একপাশ ধসে নিচু হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক। এতে অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মতো ছোট যানবাহন প্রায়ই ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় পড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই ঘিওর, দৌলতপুরসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করে। কাউটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বারেক জানান, সম্প্রতি হ্যালোবাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে সাতবাড়িয়া এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। এতে তার পা ভেঙে যায়। চিকিৎসায় বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।
পুরান গ্রামের সুমন দেওয়ান বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এই সড়কে। কিন্তু এর বেহাল অবস্থার কারণে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। তিনি আরো বলেন, শুধু বালিয়াখাড়া বাজারের অংশটুকুই নয়, পুরো সড়কজুড়ে একই খানাখন্দের চিত্র। অটোরিকশাচালক ইমরান মিয়া জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আতঙ্কে গাড়ি চালাতে হয়, কী আর করার?
শিক্ষক নূরে আলম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহন করা হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে সময় নষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবস্থা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারই প্রমাণ।
এ দিকে ঘিওর উপজেলা সদরসংলগ্ন মডেল মসজিদ থেকে থানা মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও করুণ। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, জনদুর্ভোগ বাড়ে। বালিয়াখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো: আওয়াল খান বলেন, গত ছয় মাসে এই ৯ কিলোমিটার সড়কে অন্তত অর্ধশত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, সড়কটির খারাপ অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে ‘আমফান প্রকল্পের’ আওতায় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত সড়কটির সংস্কারের কাজে হাত দেয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানান তারা।