ট্রাম্পের সাথে টানাপড়েন এড়াতে বার্ষিক সম্মেলন বন্ধের ভাবনায় ন্যাটো
Printed Edition
রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়া পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো তাদের বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের রীতি বন্ধ করার কথা ভাবছে। রয়টার্সকে ছয় সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ বছরে তার সাথে সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতেই ন্যাটো এ পদক্ষেপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই জোটের বাকি ৩১ সদস্যের অনেককেই ট্রাম্প প্রশাসন বারবার কড়া ভাষায় সমালোচনা করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেয়ায় সম্প্রতি বেশ কিছু সদস্য দেশকে একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প।
৭৭ বছরের ইতিহাসে ন্যাটোর সম্মেলনের সময়সূচিতে বৈচিত্র্য থাকলেও, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর গ্রীষ্মে জোটের নেতারা সম্মেলন করে আসছেন। চলতি বছরও আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাথে টানাপড়েন এড়াতে ন্যাটোর বেশ কিছু দেশ এই সম্মেলন আয়োজন ধীরগতিতে করার পক্ষে মত দিয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও পাঁচজন কূটনীতিক। একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে আলবেনিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনটি সম্ভবত ওই বছরের শেষ দিকে শরতে অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া, ২০২৮ সালে আদৌ কোনো সম্মেলন আয়োজন না করার বিষয়টিও ন্যাটো ভেবে দেখছে।
উল্লেখ্য, ২০২৮ সাল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছর এবং ট্রাম্পের পূর্ণ মেয়াদের শেষ বছর। আরেকজন কূটনীতিক জানান, কিছু দেশ প্রতি দুই বছর অন্তর ন্যাটো সম্মেলন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর ভার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছয় সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের আচরণের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় এখানে কাজ করছে। অনেক কূটনীতিক মনে করেন, প্রতি বছর সম্মেলন করার চাপের কারণে নেতারা কেবল তাৎক্ষণিক চমক সৃষ্টির দিকে মনোযোগ দেন, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এক কূটনীতিকের ভাষায়, ‘খারাপ সম্মেলনের চেয়ে কম সম্মেলন হওয়া ভালো। আমাদের অনেক কাজ বাকি, আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে।’ আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো ফিলিস বেরি এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনের সংখ্যা কমালে ন্যাটো নাটকীয়তা এড়িয়ে নিজের কাজে মন দিতে পারবে।’