এফবিআই সদর দফতর স্থানান্তর ঘিরে সিনেটে তহবিল বিতর্ক

আবু সাবেত, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
Printed Edition

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত এফবিআই সদর দফতর স্থানান্তর ঘিরে বিতর্কের জেরে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটি বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগ (ডিওজে)-এর বার্ষিক বাজেট বিল অনুমোদন স্থগিত করে।

সিনেট কমিটি বৃহস্পতিবার সকালে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রথম তিনটি বার্ষিক বাজেট বিল বিবেচনার জন্য বৈঠকে বসে। এ তিনটি বিল বাণিজ্য, বিচার ও কৃষি বিভাগ, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), এবং আইনসভার খরচ কাভার করে, যার পরিমাণ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

তবে, কমিটি কেবল দু’টি বিলই অনুমোদন দিতে পেরেছে। যেগুলো কৃষি বিভাগ ও এফডিএ-এর জন্য এবং আইনসভা শাখার জন্য।

তৃতীয় বিলটি, যার আওতায় বিচার বিভাগ (ডিওজে), বাণিজ্য বিভাগ এবং বিজ্ঞান সংস্থাগুলো পড়ে, তা এখন ‘অনিশ্চয়তার’ মুখে। কারণ, এ বিলে একটি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী এফবিআই সদর দফতর ওয়াশিংটন ডিসিতে রাখার পদক্ষেপ আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট সাব-কমিটির শীর্ষস্থানীয় সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, এ বিলটি নাসা, এনএসএফ এবং বাণিজ্য বিভাগের জন্য ভালো, কিন্তু এ জায়গায় এক বিশাল ফাঁক রয়ে গেছে। এটি শুধু ভবনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি নজির নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে কংগ্রেসের বহু বছরের দ্বি-দলীয় সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে পারে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

অন্য দিকে, ক্যানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর ও এফবিআই তহবিল তদারককারী সাব-কমিটি প্রধান জেরি মোরান এ সংশোধনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কমিটির এখতিয়ারভুক্ত নয়।

মোরান বলেন, এফবিআই সদর দফতর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করা আমাদের বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ নয়। কমিটি আগে কখনো এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি, এবং এখনো বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সদস্যরা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে আগামী সপ্তাহে এ বিলটি আবার বিবেচনায় আনা যাবে।

সিনেটর লিসা মারকোউস্কি বলেন, আমরা শুনানির মাঝপথে স্বেচ্ছায় বিরতি নিয়ে এখন অবস্থান করছি, যেন প্রশাসন রোনাল্ড রিগ্যান ভবন-এর সাথে ঠিক কী করতে চায়, সে বিষয়ে আরো তথ্য নেয়া যায়। সেটাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে অজানা অংশ। সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ার ও মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রাথমিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও পরে ‘না’ ভোট দেন, কমিটি স্থগিত হওয়ার আগে বলেন, এ একটি ইস্যুর জন্য একটি সম্পূর্ণ দ্বি-দলীয়ভাবে সমর্থিত বিল পেঁচিয়ে পড়েছে, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

বাণিজ্য-বিচার-বিজ্ঞান (সিজেএস) বাজেট বিল নিয়ে মোরান বলেন, এ বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিমাণ প্রকৃত অর্থে মাত্র ২৭৯ মিলিয়ন ডলার বা মাত্র ০.৪ শতাংশ। এর একটি অংশ ব্যবহার হবে আগামী দশকীয় আদমশুমারির প্রস্তুতিতে।

এ বিলের মাধ্যমে বাণিজ্য বিভাগ (ডিওসি) ও বিচার বিভাগ (ডিওজে)-এর জন্য কিছু কাটছাঁট করা হবে বলে জানা গেছে।

এফবিআই, এটিএফ, কারাগারের ব্যুরো এবং ডিইএ এজেন্সিগুলোর বরাদ্দ একই রাখা হবে। জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) বরাদ্দও কমানো হবে।

তবে মোরান জানান, বিলটি এনএএ (জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা)-এর কর্মী সঙ্কট মেটাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আইন প্রস্তাব করেছি যাতে এনএএ কর্মীদের ছাঁটাই বা বরখাস্ত না করা হয়, এবং নিয়োগে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয়। এ বাজেট এনএএ-তে কর্মসংস্থান বজায় রাখতে পুরোপুরি সহায়তা করছে।

অনুমোদিত দু’টি বিলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

কমিটি প্রথম দু’টি বাজেট বিল অনুমোদন দিয়েছে : কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিল- সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত; ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮.২ বিলিয়ন ডলার ডাব্লিউআইসি (নারী, শিশু ও শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি)-এর জন্য; ৭ বিলিয়ন ডলার এফডিএ-র জন্য; ১.৭ বিলিয়ন ডলার ভাড়া সহায়তায়; ১.২৩ বিলিয়ন ডলার খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা (এফএসআইএস)-এর জন্য; ২৪০ মিলিয়ন ডলার ম্যাকগভর্ন-ডোল খাদ্য ও শিক্ষা কর্মসূচির জন্য (যা ট্রাম্পের বাজেট প্রস্তাবে বাদ পড়েছিল) আইনসভা শাখার বাজেট বিল ভোট হয় ২৭-১; বরাদ্দ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।

এ বাজেট বিলগুলো হলো বার্ষিক ১২টি বাজেট বিলের চার ভাগের এক ভাগ। সিনেট বর্তমানে বেশি দ্বি-দলীয় সমর্থনসম্পন্ন বাজেট বিল অনুমোদন করছে; যেখানে হাউসে প্রস্তাবিত বাজেটগুলো মূলত রিপাবলিকানদের তৈরি।

তবে হাউস ও সিনেট উভয়ই বাজেট প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে থাকায়; অক্টোবরে সম্ভাব্য সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এখন একটি অস্থায়ী বাজেট ব্যবস্থা (স্টপগ্যাপ পরিমাপ) আশা করছেন, যা কংগ্রেসকে আরো সময় দেবে দ্বি-দলীয় চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে।