ভাইরাল ভিডিও নিয়ে গাজী নজরুল বললেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন ওই মেয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী। যা তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবাও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জামায়াত জানিয়েছে, আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গত সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সাথে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
গাজী নজরুলের বিবৃতি : লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা: মাকছুদা বেগম ও মোছা: মরিয়াম বেগমকে সাথে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো: মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা ওই অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের আগে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরে সে পাঁচ-সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো: মাসুম বিল্লাহর সাথে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
পরে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গাজী নজরুল আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা: মরিয়াম বেগমের সাথে তার পিতা মো: মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।
এ সময় তিনি বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ দিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো: আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য : ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সাথে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মেয়ের বাবার বক্তব্য : মেয়ের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন আমার মেয়ের সাথে বিয়ে হয় গাজী নজরুল ইসলামের। ওই দিন উনারা আমার অফিসে (মগবাজার) এলে রেস্ট নিচ্ছিলেন ওখানেই। সেখান থেকে ভিডিওটি ধারণ হয়। এর সাথে আমার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত। সে আমার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করত।
মরিয়ম খাতুনের বক্তব্য : এ ব্যাপারে ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী মরিয়ম খাতুন বলেন, উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওই দিন ঘুরতে গিয়ে আমরা আমার বাবার অফিসে রেস্ট নিচ্ছিলাম। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে জামায়াত : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এক বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।