কেউ কেউ বিতর্ক সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে : তারেক
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
কেউ কেউ বিতর্ক সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল শনিবার দুপুরে আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাকের যৌথ উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দল মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন তারা যাতে সফল না হয়।
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিষ্ঠা জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ, সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে। প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।
তিনি বলেন, এখানে যারা শত কষ্ট বুকে নিয়ে এসেছেন,তারা যাতে দেশের আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার পেতে পারে তার একটিমাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আসুন, আমরা আজকে সেই শপথ গ্রহণ করি, যাতে এখানে আমাদের উপস্থিত হওয়া বৃথা না যায়। আরো যারা শহীদ আছেন, তাদের সাথে যে অন্যায় হয়েছে তাদের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ধৈর্য ধারণ করি, যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যেটা শুরু হয়েছে, তাতে যাতে কেউ ব্যাঘাত করতে না পারে।
রাষ্ট্র আপনাদের ভুলে যাবে না : তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না। সব শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপর বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্ট কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র গঠনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা এই শহীদ পরিবারদের নামে রাষ্ট্রে বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নামকরণ করব, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদেরকে গৌরবের সাথে স্মরণ রাখতে পারে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতো রাষ্ট্রীয় সহায়তার হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি।
বিএনপির একজন নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি : তারেক রহমান বলেন, গুম খুন অপরণের শিকার এসব মানুষের শোকাতর পরিবারগুলোর আশা হয়ে কাজ করে যাচ্ছে একটি সংগঠন মায়ের ডাক। ফ্যাসিবাদের শিকার মানুষদের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছে মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম তুলি। দল হিসেবে সাধ্য এবং সামর্থ্যরে সবটুকু নিয়ে নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার।
তিনি বলেন, দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপরহণ মিথ্যা মামলার হয়রানি-নির্যাতনের পর বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথে ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
আমাদের কর্মীরা গুপ্ত বেশ ধারণ করেনি : তারেক রহমান বলেন, কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্তবেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না ইনশা আল্লাহ।
আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মায়ের ডাকের সভানেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি, আমার বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুনের যৌথ সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আমরা বিএনপি পরিবারের প্রধান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণীর তাহসিনা রুশদী লুনাসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
২০ বছর পর বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বরিশাল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি বেলা ২টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে বিষয়টি বরিশাল বিভাগের নেতাদের জানানো হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফরের বিষয়টি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অবহিত করেছেন।
সে অনুযায়ী বেলস পার্কের জনসভাকে বড় সমাবেশে রূপ দিতে আজ ১৮ জানুয়ারি প্রস্তুতি সভা ডেকেছে বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি। বরিশাল ক্লাবে বেলা ৩টার দিকে সেই সভায় বিভাগের ধানের শীষের প্রার্থীরা ছাড়াও সংগঠনের নেতারা অংশ নেবেন।’
তারেক রহমান ২০০৬ সালের ১৪ মে সর্বশেষ বরিশালে এসেছিলেন। ওই দিন তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বরিশাল স্টেডিয়ামে একটি কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। একই সফরে তিনি সদর উপজেলার সাহেবেরহাট এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতু উদ্বোধন করেন। সে সময় তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।