কাউখালীতে পরিত্যক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
Printed Edition
রিয়াদ মাহমুদ সিকদার কাউখালী (পিরোজপুর)
কাউখালী উপজেলায় দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এক সময় পতিত পড়ে থাকা জমি এখন সবুজ লতায় ঢাকা, আর তার ফাঁকে ফাঁকে উঁচু হয়ে আছে বড় বড় তরমুজ। বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের বিজয়নগর ব্লকে কচা নদীর তীরে প্রায় ৮৬ একর অনাবাদি জমিতে এবার তরমুজের চাষ হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় এসব জমি পরিত্যক্ত থাকলেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগ এবং এসএসিপি প্রকল্পের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে সেখানে লাভজনক আবাদ সম্ভব হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের কাজে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং পরিকল্পিত পরিচর্যার কারণে এ বছর ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে নতুন করে পলি ও জৈব সার প্রয়োগ করায় মাটির উর্বরতা বেড়েছে। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ ব্যবহারের ফলে তরমুজের আকার, স্বাদ ও মিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সফল চাষি মিজানুর রহমান ও কামাল হোসেন বলেন, বছরের পর বছর নদীর চরটি অনাবাদিই ছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার সেখানে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ফলন এত ভালো হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। বাজারে চাহিদা থাকায় লাভ আশানুরূপ হবে বলে আশা করছি।
কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদার নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকিতে তারা সফল হয়েছেন। তাদের মতে, কচা নদীর তীরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা গেলে আরো শতাধিক একর জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, কৃষকদের অনাবাদি জমি আবাদে আনতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখানকার মাটি ও জলবায়ু তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে আরো কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।
স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে এ তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, অনাবাদি জমিতে তরমুজের এ সাফল্য উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।