কালিয়াকৈরে শিশু রাফি হত্যা : আসামি মহির উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় আসামি মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আলমগীর আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনকে জেলহাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত ২০২৩ সালে জুন মাসে মুসা আহম্মেদ রাফিকে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মহির উদ্দিন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার কোনাচীপাড়া-চুলীয়াচর এলাকার মৃত তমছের আলীর ছেলে।

মামলার অভিযোগ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, গত ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা আহম্মেদ রাফি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজা করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি পরিবারে পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়।

পরে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় কালামপুর এলাকার সোহাগপল্লীর উত্তরপাশে একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে, শিশুটির গলায় তার ব্যবহৃত বেল্ট শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো: শামীম মীর বাদি হয়ে ২৭ জুন ২০২৩ কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তদন্ত শেষে একমাত্র আসামি মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফুর রহমান এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট তমিজ উদ্দিন মামলা পরিচালনা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু মুসার পরিবারের সদস্যরা।