যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে ট্রাম্পের ৫০ দিনের আলটিমেটাম
Printed Edition
গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেনে আরো অস্ত্র পাঠাতে তিনি একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা না চাপিয়েই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে হুমকি দিয়েছেন, যদি ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ থামানো না হয়, তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প বারবার ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা কমানোর কথা বলেছেন এবং মস্কোর আগ্রাসনের পরও পুতিনের প্রতি তার সদয় আচরণ নিয়ে সমালোচিত হচ্ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি একটি চুক্তি করেছেন যাতে ন্যাটো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনবে। তিনি বলেন, এই অস্ত্রের মধ্যে থাকবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা ইউক্রেনের আকাশ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ওরা সব কিছুর খরচ দিচ্ছে। আমরা আর কোনো টাকা দিচ্ছি না।’
জার্মানির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানান, বার্লিন ইউএস থেকে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম কেনার জন্য আলোচনায় ছিল। ন্যাটোর সাপোর্ট অ্যান্ড প্রোকিউরমেন্ট এজেন্সি অস্ত্র কেনা ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকায় ইউক্রেনের জন্য এসব অস্ত্র ব্যবস্থাপনার কাজ করবে এই সংস্থাই।
ট্রাম্প বিস্তারিত বলেননি কোন অস্ত্রগুলো অগ্রাধিকার পাবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আগের মাসে জানিয়েছিলেন, প্যাট্রিয়ট ছাড়াও ইউক্রেনের আরো দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র দরকার।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন বলেন, ‘এই প্রশাসনের কাছ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কিছু শুনিনি।’ ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ কিছু অস্ত্র ডেলিভারি থামিয়েছেন, যা ট্রাম্প বলছেন এক ধরনের মূল্যায়ন ছিল, কারণ তারা জানতেন ন্যাটো চুক্তি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস অনুমোদিত প্রেসিডেন্ট ড্রডাউন অথরিটি অনুযায়ী এখনো ইউক্রেনের জন্য ৩.৮৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র তহবিল রয়েছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে সরাসরি পেন্টাগনের গুদাম থেকে অস্ত্র পাঠানো যায়।
শেষবার জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠিয়েছিল। এখন ট্রাম্পও নতুন করে একটি প্যাকেজ বিবেচনা করছেন। তবে এসব উদ্যোগে ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের সমর্থকরা। প্রতিনিধি মারজোরি টেলর গ্রিন বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে বা বিদেশে যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’ ট্রাম্পের সাথে ওভাল অফিসে বৈঠকে ন্যাটো সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুটে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘বড় অর্জন’ বলে আখ্যা দেন।
রুটে বলেন, ‘আপনি ইউক্রেনকে সাহায্য দিতে চান, কিন্তু এর খরচ ইউরোপীয়দের বহন করতে বলছেনÑ এটাই যৌক্তিক।’
এদিকে ট্রাম্প পুতিনকে ৫০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন। না হলে রাশিয়ার মার্কিন রফতানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘দেশটির অর্থনীতি খুব খারাপ যাচ্ছে। পুতিনকে তার অর্থনীতি বাঁচাতে হবে।’ তিনি এমনকি রিপাবলিকানদের একটি রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব বিল নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, হয়তো এই বিলের দরকার হবে না।
এখন তিনি পুতিনের ওপর আগের চেয়ে ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘আমরা চারবার চুক্তির কাছাকাছি গিয়েছিলাম, কিন্তু ওর কথা কোনো কাজের ছিল না।’ পুতিনকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না সে খুনি, কিন্তু সে কঠিন মানুষ। সবাইকে সে ঠকিয়েছে, ক্লিনটন, বুশ, ওবামা, বাইডেন। আমাকে না।’
ট্রাম্প আরো বলেন, শুধু কথায় কিছু হয় না। কাজ হতে হবে, ফলাফল আনতে হবে।’