ভালুকায় নদী পারাপারে কাঠ-বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের মানুষের ভরসা
Printed Edition
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)
ভালুকা উপজেলার পনাশাইল বাজার ঘাট এলাকায় খিরু নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠ-বাঁশের সাঁকোই তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের খরস্রোতা খিরু নদী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে। নদীর ঐতিহ্যবাহী পনাশাইল বাজার ঘাট দিয়ে নিয়মিত পারাপার করেন ভালুকা, হবিরবাড়ি ও রাজৈ ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ। পনাশাইল বাজার প্রাচীন আমল থেকে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নদীর এ স্থানে পাকা ব্রিজ না থাকায় বর্ষাকালে নৌকাই হয়ে ওঠে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম। বিশেষ করে হাটবারের দিন বাজারে আসা মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহায়ে নদী পার হতে হয়।
শুকনো মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি নদীর ওপর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। এ সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে প্রতিবার পাঁচ থেকে দশ টাকা করে দিতে হয়। প্রতিদিন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মজীবী নারী-পুরুষ ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সাঁকো পার হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ে আশকা উচ্চবিদ্যালয়, কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পনাশাইল দাখিল মাদরাসা, কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, পনাশাইল বাজার ও ভূমি অফিস অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে সাঁকো পার হতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষাকালে এ পথে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটছে।
নদীর দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দারা জানান, এখানে যানবাহন পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে বা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উপজেলা হাসপাতালে নিতে হলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে সময় নষ্ট হয় এবং রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়ে।
স্থানীয় কৃষকেরাও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান। উপজেলার বাঁশি ও নন্দীপাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে শুধু বাঁশের সাঁকো ছিল। এখন বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কিছুটা মজবুত পুল তৈরি হলেও কৃষিপণ্য পরিবহন করা এখনো খুব কষ্টসাধ্য। অনেক সময় উৎপাদিত ফসল সরাসরি বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
পনাশাইল খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, খিরু নদীর ওপর একটি পাকা ব্রিজের দাবি তাদের দীর্ঘ দিনের। কয়েকবার জরিপ ও মাপজোক করা হলেও এখনো ব্রিজ নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, পনাশাইল বাজার ঘাটে খিরু নদীর ওপর একটি ‘ওয়াই-টাইপ’ ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ব্রিজটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে এবং দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।