কবিতা : শিল্প হয়ে ওঠার নেপথ্যে

Printed Edition
Sahitto-4
কবিতা : শিল্প হয়ে ওঠার নেপথ্যে

তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী

সাহিত্যে গদ্যেরও আগে পদ্য বা কবিতার অধিষ্ঠান। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত পুরাতন দলিল-দস্তাবেজ পাওয়া গেছে, তার প্রায় সব কিছুই কাব্যিক ঢঙে লিখিত। পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাকাব্য গিলগামেশ কবিতার ফর্মে রচিত। পৃথিবীর প্রথম মহিলা কবি মেসোপটেমিয়ার এনহেদুয়ান্নার খ্রিষ্টপূর্ব ২২৮৫ সালে সাঁইত্রিশ প্রস্তরখণ্ডে লিখিত কবিতা আজও মানুষকে ভাবায়। যখন সাহিত্যের লিখিত রূপ আবিষ্কৃত হয়নি, তখন মানুষ মুখে মুখে সাহিত্য চর্চা করত, তার ভঙ্গিও ছিল কাব্যিক। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ পদ্যে বা কবিতায় রচিত। কবিতা এক বৈচিত্র্যময় শিল্পমাধ্যম, যা প্রাচীনতম এবং খেয়ালি। রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘কবিতা বুনো পাখি, তাকে আয় আয় বলে ডাকলে ধরা দেয় না।’ কবিতা নানা ধরনের হতে পারে। তা যেমন মন্ময় বা আত্মগত ভাবানুভূতি প্রধান, তেমনি তন্ময় বা নৈর্ব্যক্তিক বস্তুনিষ্ঠও হতে পারে। তবে আধুনিক সাহিত্যবোদ্ধারা কবিতার শ্রেণীকরণে বিষয়বস্তু কিংবা রীতিনির্ভর, আকার কিংবা আয়তননির্ভর, উদ্দেশ্য কিংবা ছন্দবৈশিষ্ট্য নির্ভর প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রচলিত ছন্দোবদ্ধ কবিতায় ছন্দই মুখ্য ; কবিতার অনুভূতি, অর্থ, রস-একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। অন্যদিকে গদ্য কবিতায় অনুভূতি, রস, অর্থ মূল নিয়ামক, ছন্দ সেখানে গৌণ। তবে সেখানেও এক ধরনের ছন্দ থাকে মানবদেহে মাংসের গাঁথুনির ভেতর হাড়ের অবস্থানের মতো প্রচ্ছন্ন অবস্থায়।

বাংলা কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রচলিত অন্ত্যমিল ও যতির ব্যবহারযুক্ত ছন্দরীতিকে ভেঙে প্রথম ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রবর্তন করে একে আধুনিকমুখী করে তোলেন, যেখানে ভাবের প্রবহমানতার সাথে পয়ারের বন্ধন মুক্তির প্রয়াস লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও এক্ষেত্রে কিছুটা ধারণার বিস্তৃতি ঘটান। তারা প্রমাণ করতে সমর্থ হন, পদ্যে ছন্দ বাঁধন যেমন থাকে, তেমনি ‘অসম পঙ্ক্তিক পদ্যে’র শরীরে ছন্দস্রোত বইয়ে দিয়ে ছন্দের বন্ধন মুক্তিও সম্ভব। বাংলা কবিতায় এমন ‘মুক্তক ছন্দে’র প্রথম সার্থক প্রয়োগ লক্ষ করা যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’, ‘পলাতকা’ কাব্যে। কবি কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাও এ ধরনের কবিতা, যেখানে তিনি কবিতার শরীরে ছন্দস্রোত বইয়ে ছন্দের অর্গল ভাঙেন। আধুনিক কবিতায় গদ্যের আধিপত্য তুলনারহিত ; তবে এতেও গদ্য ছন্দ আছে। আসলে ছন্দ ছাড়া কবিতার অস্তিত্ব নেই। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভাবানুভূতির নাচন তুলে এ ছন্দ এগিয়ে যায়। এখানে পঠনে হোঁচট খাওয়ার সুযোগ নেই। ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী শিল্প মুক্তির আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বিশ্বে গদ্য কবিতার অধিষ্ঠান হলেও বাংলা সাহিত্যে গদ্য কবিতার উদ্ভব ঘটে বিশ শতকের তৃতীয় দশকে।

কবিতার সাথে মনুষ্য অনুভূতির একটি সম্পর্ক রয়েছে। এই পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, মানুষের মন থাকবে, ততদিন অনুভূতি দাপিয়ে বেড়াবে। কারণ প্রত্যেক মানুষের ভেতরে একটি কবিসত্তা বাস করে-নিভৃতে ঘাপটি মেরে থাকে, জেনেটিক্যালিই থাকে। এ জন্যই বলা হয়ে থাকে, ‘কবিতা হচ্ছে অনুভূতিসঞ্জাত এক রূপময় ভাবশিল্প’। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থের কথায়, ‘গভীর অনুভূতির স্বাভাবিক প্লাবনই কবিতা’। তাই কবিতার সৃষ্টিধারা কারোই নিয়ন্ত্রণ মেনে চলে না। আধুনিকতা, উত্তর আধুনিকতা, দশক বিচারে কবিতার মূল্যায়ন অর্থহীন। কবিতা কোনো ইজম বা এস্টাবলিশমেন্টের ধার ধারে না। তবে কবিতায় কানেক্টিভিটি থাকতে হয়। কবিতাকে বিচার করতে হয় এর কাঠামো, অন্তর্গত শিল্পবোধের নির্যাস বিবেচনায় যা কোনো না কোনোভাবে পাঠকের মনে অনুরণিত হয়, গুঞ্জরণ তোলে। রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘কবিতা বুঝবার না, হৃদয়ে বাজবার জিনিস।’ তবে এক্ষেত্রে কবিতার ভাষা ও ছন্দ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি কবিতা তখনই কবিতা হয়ে ওঠে, যখন এতে উপযুক্ত ভাষা, ছন্দ, প্রকরণ প্রয়োগ করা হয়। প্রত্যেক ভাষাতেই কবিতার একটি অবস্থান বা বিদ্যমানতা থাকে। এ বিদ্যমানতা আমরা খুঁজে পাই শব্দ, ছন্দ, ব্যাকরণ ও অতীত সূত্রে। একে অবজ্ঞা করা যায় না। কবিতা লেখা শেখানো যায় না; কিন্তু একে শিখে নিতে হয়। কারণ, কবিতার কিছু কলাকৌশল, রীতিনীতি, রূপরেখা থাকে, যা সযতœ সাধনা ও পরিচর্যায় অঙ্কুুরিত, বিকশিত ও পুষ্পিত হয় এবং কবিতাকে পরিমার্জিত ও উচ্চারণসিদ্ধ করে।

কবিতা হলো চেতনার অধিক্ষেপ, শিল্পের কঠিনতম মাধ্যম। কবিতা হলো, ঘোরলাগা মায়াজালের স্বতঃস্ফূর্ত বৃষ্টি। কবির সজাগ সত্তার দুর্নিবার প্রণোদনায় এর আবির্ভাব, যা স্বয়ম্ভু এক ব্রতচারী পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠে। কবিতা হলো অসীম বিস্ময়, যার জন্মকালে কবি আচ্ছন্ন থাকেন, উত্তেজনায় কাঁপেন। নিজের মাঝে জেগে ওঠা পঙক্তি আপন মনে বারবার আওড়ান। একজন কবির মনের গহিনে কখন কবিতা এসে ধরা দেয়, তা বলা মুশকিল। কারণ কবিতা বাক্যের কাব্যিক প্রকাশ, যা বিমূর্ত অভিজ্ঞতা আর কল্পনায় ধমনীতে মিশে অধিবিদ্যায় রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। আসলে কবির অবচেতন মনে কবিতার সৃজন হয় অনেকটা সহজাত প্রণোদনা, অনুভূতি প্রকাশের কাব্যিক চাপ বা ইচ্ছা থেকে। এতে কবিতার ডালপালা কবির হৃদয় উৎসারিত ভাষার ব্যঞ্জনায় আবেগ-আশ্রিত হয়ে অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কবির আরোপিত ছন্দ, বিন্যাস, কাব্যভাষা, শব্দচয়ন কিংবা উপমায় ভর করে বহুগামী হয়, যেতে চায় বহুদূর। কাব্য সৌন্দর্য নির্ভর করে কবিতার ভাব-ঐশ্বর্যের প্রায়োগিক কলা-কৌশলের ওপর। উপমা-উৎপ্রেক্ষা- কল্পচিত্র-চিত্রকল্পের অভিনবত্ব ও উপস্থাপনার নিপুণতায় কবিতা প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। এ ছাড়া কবিতায় শব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

মনের ভাব ও অনুভূতি হলো কবিতার আত্মা; আর সেগুলো প্রকাশের জন্য যে শব্দমালা ব্যবহৃত হয়, তাহলো কবিতার শরীর। নির্বাচিত শব্দের সুপ্রযুক্ত বিন্যাস ও নিপুণ ব্যবহারে কবিতা বিচিত্র বৈভবে চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে। কবিতায় শব্দচয়ন হতে হয় যথাযথ, অবশ্যই প্রকাশিত ভাবের সাথে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। কবিতাটা এমন হতে হয়, যাতে এতে শব্দের শব্দাতীত ব্যঞ্জনা থাকে। তবে লক্ষ রাখতে হয়, কবিতা যেন শব্দভারে নুইয়ে না পড়ে। কবিতায় বাক্যবিন্যাসও জরুরি। বাক্যের উপস্থাপন কৌশল হতে হয় শৈল্পিক, যাতে শব্দ ও বাক্যের মায়াজালে পাঠক আপ্লুত থাকে। তবে তা হতে হয় মেদহীন। অপ্রয়োজনীয় উপমা, অনুপ্রাস, অলঙ্কার, গুরুচণ্ডালী শব্দ এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, অযথা বাড়াবাড়ি আধুনিক পাঠকের অপছন্দ।

আগেই বলেছি, কবিতায় শব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ জন্য কবিরা কবিতায় শব্দ নিয়ে প্রতিনিয়ত খেলা করেন। একজন প্রকৃত কবি সর্বদা শব্দের সাথে বসত করেন, শুনেন শব্দের পারস্পরিক কথোপকথন। শব্দের ভেতর দিয়ে কবি নিজেও কথা বলেন। কারণ, শব্দ হলো নীরবতার মাঝে সরব ও বোধের সাঁতার। কবিরা নিজস্ব রুচি, পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত-অপ্রচলিত, আধুনিক-সর্বাধুনিক, সাধু-চলিত-সব ধরনের শব্দই কবিতায় ব্যবহার করেন। বস্তুত শব্দ নির্বাচনে যে কবি যত বেশি আপন স্বাতন্ত্র্য ও নিজস্বতায় ভাস্কর, তিনি ততই মৌলিকত্বের অধিকারী বলে মনে করা হয়। তবে জোর করে শব্দকে কবিতায় চাপিয়ে দেয়া যায় না। শব্দের নিজস্ব ভর, গতি ও আপাতসংশ্লেষ প্রবণতা থাকে। এই প্রবণতা এক এক মানসিক পর্যায় ও সময় পরিবেশে এক এক পরিণতি পায়। তাই বলে কবিতা শুধু শব্দের ইমারত নয়। শব্দের শরীরে সঙ্কেত ও নতুন বিভা কিংবা কবিতায় দ্যুতিময় শব্দের ব্যবহার হলেও কবিতা হয়ে ওঠার পর শব্দকে আর দেখা যায় না, শোনাও যায় না। শব্দ তখন কবিতায় বিলীন হয়ে বিমূর্তায়িত হয়ে যায়। এক সময় বলা হতো, কবিতায় শব্দই ব্রঙ্ম। এখন তার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে কবিতার বাকভঙ্গি বা ফরপঃরড়হ। এ নিয়ে আজ নানামুখী কাজ হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকরণ চাতুর্যও কবিতা নয়। মনে রাখতে হবে, কবিতায় এখন আর কোনো একক ছত্রের গুরুত্ব নেই, একক শব্দেরও নয় ; প্রত্যেকটি পঙক্তি ও শব্দ সমান গুরুত্ববহ।

কবিতার কাজ নিঃশব্দে, অগোচরে, সংগোপনে কিন্তু স-মানসেই চলে। অমিয় চক্রবর্তীর কথায়, ‘মনোনায়কই কবিতাকে লিখিয়ে নেয়’। কবিতা হলো এমন এক শিল্প বা সৃষ্টি, যা ক্রমব্যস্ত পৃথিবীতে নিয়ত নিজেকে বদলায় নিজস্ব ভাষা ও ভঙ্গিতে। শিল্প বা সৃষ্টি মাত্রই অপূর্ণ। এ জন্য প্রতিভাবান কবিদের কোনো আত্মতুষ্টি নেই। নিরন্তর নিজের মধ্যে ভাঙচুর চালান। কবিতায় যখন কোন শব্দ ব্যবহৃত হয়, মনে রাখতে হয় আসলে ওটি পুরনো; কিন্তু কবির কাজ হচ্ছে এতে নতুন অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করা, সাধারণ শব্দকে অসাধারণ বা বিশেষ করা। আগেকার সরল কবিতায় এখন মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ কম। এখনকার কবিতাকে হতে হয় রহস্যময়, দ্যুতিময়, ইশারার আর কিছুটা খেয়ালি। চেনা চেনা অথচ অচেনা। কবি কিছুটা বলেন, বাকিটা পাঠক নিজের মতো করে বুঝে নেন। ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ কবিতার ভাষা সম্পর্কে বলেন, ‘কিন্তু যখন কবিতা লিখতে বসব, তখন তার হতে হবে অন্যরূপ; সেখানে দেখব তাকে অবগুণ্ঠনবতী, রহস্যময়ী, চতুরা, সেখানেও সে কথা বলবে; বরং আরো অনেক বেশি করে বলবে, কিন্তু মুখরা হয়ে নয়, বলবে আধো আলো আধো ছায়ায় বসে আভাসে, ইঙ্গিতে, ইশারায়।’ কবিতার ভাষা গোপনও করা যায়। কারণ কবিতা অপ্রকাশেরও ভার নেয়। তাই বলে কবিতা হালকা চটুল হলে চলবে না; তাতে থাকতে হবে ভরকেন্দ্র, সমুদ্রের গভীরতা, যাতে পাঠক সাগর সেঁচে মুক্তো আনার মতো তা থেকে নির্যাস গ্রহণ করতে পারে। আসলে উৎকৃষ্ট কবিতা আবেদন, অভিনবত্ব ও সৌন্দর্যে বহুমাত্রিকতা ও বহুরৈখিকতাকে ধারণ করে। ফলে একই কবিতা পাঠভেদে ভিন্নার্থ নিয়ে উন্মোচিত হয়। কবিতা আসলে শেষ পর্যন্ত একটি শিল্প। শিল্পের কারুকাজ ও চমকে বিষয়হীনতার নির্মাণ এবং স্তব্ধতার অনুবাদও এক ধরনের কবিতা। কবিতার ভাষাবিদ্ধ যা কিছু নির্মাণ, সে তো একজন কবির নিজস্ব দুর্বোধ্যতাকে স্পর্শ করার জন্যই! কিছু না থাকাটাও তো এক ধরনের থাকার সঙ্কেত।

কবিতায় কাব্যরস থাকা চাই। কাব্যরস তা-ই, যা কবিতার শরীরে পাঠক বা আলোচকের মনঃদৃষ্টি আবদ্ধ রাখে। কবিতা বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, কিন্তু অনিবার্যভাবে তা শৈল্পিক। এই শৈল্পিকতায় ঋদ্ধ বাংলা কবিতা আজ অন্তর্লোকের অদ্ভুত এক মায়াবী জগতে পা রেখেছে। আজকাল কবিতায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। উপমা-উৎপ্রেক্ষা-অনুপ্রাস-যমক-শ্লেষ-রূপকের বনেদি কাঠামোতেও ছোঁয়া লেগেছে নতুন ভাবনা, উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির। আজকাল কবিতার বিষয়, আঙ্গিক, ভঙ্গি, অন্তর্বয়ন, খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা, আত্ম-নবায়নের ঐশ্বর্য হাতে হাত ধরে চলে। কবিতা আজ প্রচলিত ডিকশন ভেঙে নতুন টেক্সট তৈরি করার ক্ষমতায় ক্ষমতায়িত। জীবনের নেতিবাচক ও প্রথাগতভাবে অসুন্দর দিকগুলোও আজ কবিতার হাতিয়ার। এগুলো পুরনো হতে চায় না, হারায় না তার আকর্ষণ ক্ষমতা; বরং সৃষ্টি করে অভিনব আবেদন অনিঃশেষ সম্মোহন। অতীন্দ্রিয় অনুভূতির এই স্বপ্নাতুর তন্ময়তা আচ্ছন্ন প্রাণরসে ভরা এমন কাব্যভাষা এর আগে বাংলা কবিতার ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। শব্দের অঙ্গার থেকে স্ফুলিঙ্গের মতো বেরিয়ে আসছে এ কাব্য ভাষা। কবিতার সাথে যারা গেরস্থালি করেন, তারা এগুলো সাথে নিয়েই কবিতায় আলোর নাচন তোলেন।