টেস্ট ওয়ানডেতে হলে টি-২০তে কেন নয়

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য, ওয়ানডেতে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স-কিন্তু টি-২০তে যেন পিছুটান। লংগার ভার্সনে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করেছে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে যে দল বড় দলগুলোর বিপে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখেছে, সেই দলই ২০ ওভারের ক্রিকেটে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে! সর্বশেষ ১০ টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে ছয়টিতে, ড্র করেছে একটি। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে জয় এসেছে ৭টিতে। অথচ টি-২০ তে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে হার ৭টি। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশ টি-২০ তে বড় প্রশ্ন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপে ঘরের মাঠে টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ সেই প্রশ্নকে আরো বড় রূপে দেখা দিয়েছে। পাঁচ বছর আগে যে অস্ট্রেলিয়াকে স্পিনের ফাঁদে ফেলে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, এবার সেই প্রতিপরে কাছেই ফিরতি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ টাইগাররা। চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল পরাজয়ের মূল কারণ। ২০ ওভারে ১০৯ রানে আটকে যায়। বোলারদের সামনে তখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এত কম পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস পাওয়াটা অসম্ভব।

অস্ট্রেলিয়া সেই সুযোগ নিয়েছে খুব সহজেই। অধিনায়ক মিচেল মার্শের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৯ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে সফরকারীরা। ২৮ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রানের ইনিংসে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন ১১০ রানের ল্য অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের জন্য কতটা সহজ। অথচ টাইগাররা ব্যাটাররা ক্রিজে ধুঁকছিল। বাংলাদেশের ব্যাটিং পাওয়ার প্লে ছিল পুরোপুরি দুঃস্বপ্নের মতো। যে মাঠে ৪৮ ঘণ্টা আগেই পাওয়ার প্লেতে ৭২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ, একই মাঠে শেষ ম্যাচে প্রথম ছয় ওভারে স্কোর মাত্র ২২ রান, হারিয়েছে ৩ উইকেট। ১০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৪২ রানে ৫ উইকেট।

শুরুটাই হয়েছিল অস্বস্তিকরভাবে। দ্বিতীয় ওভারে ভুল বোঝাবুঝির রান আউটে ফিরেছেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর সাইফ হাসানের ব্যর্থতা বাংলাদেশের চাপ আরো বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক ব্যাটার আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বিপওে ব্যাটারদের অসহায়ত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ওয়ানডে সিরিজে যিনি উইকেট পাননি, সেই জাম্পাই টি-২০ সিরিজে প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে একটি এবং শেষ ম্যাচে দু’টি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরো স্পষ্ট করেছেন।

শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একমাত্র উজ্জ্বলতা ছিলেন তৌহিদ হৃদয়। যখন একপ্রান্তে উইকেট পড়ছিল নিয়মিত, তখন একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। ৪১ বলে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৬১ রানে। ৫১ বলের ছিল ৩ চার ও ৩ ছক্কা। সঙ্গ না পাওয়ায় তার ইনিংসকে আরো বড় করতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে স্পেন্সার জনসন ছিলেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তার করা ২৪ বলের মধ্যে ২০টিই ছিল ডট। নাথান এলিসও ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের নাসুম আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কিছুটা চাপে রেখেছিলেন। তার বলে আউট হয়েছেন জশ ইংলিশ। রিশাদ হোসেন থামিয়েছেন জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের জায়গায় খেলা কনোলিকে। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাতেই ছিল।

সিরিজের শেষ ম্যাচে সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে বাইরে রেখে সুযোগ দেয়া হয়েছিল নুরুল হাসান, শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে। কিন্তু পরিবর্তনও বদলাতে পারেনি ফলাফল। এই ব্যর্থতার মধ্যে আলোচনায় ছিল চট্টগ্রামের ভেনুও। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়াম যেমন সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে, টি-২০তে চট্টগ্রামের সাগরিকা যেন উল্টোযাত্রা। ওয়ানডেতে এই মাঠ বাংলাদেশকে খুব বেশি সাফল্য না দিলেও টি-২০তে সাম্প্রতিক ফলাফল হতাশাজনক। সর্বশেষ ১০ টি-২০র ৭টিতেই হার এই মাঠে। তাহলে কি সাগরিকা বাংলাদেশের জন্য টি-২০তে অপয়া ভেনু। অবশ্য ভেনুকে দোষ দিয়ে ব্যর্থতা ধামাচাপা দেয়া যাবে না। ব্যাটিং পরিকল্পনা, পাওয়ার হিটিং সমতা, চাপ সামলানোর মানসিকতা-সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে। ব্যর্থতা খুঁজে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে নিজেদের। টেস্ট, ওয়ানডেতে সাফল্য এলে টি-২০ কেন নয়। একাদশ তো এরা এরাই। গাঁথুনির শুরুটা হোক আজ থেকেই।