কয়রায় নির্মাণের এক সপ্তাহে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

Printed Edition
Banglar Diganta-1
কয়রার উত্তর মাদারবাড়ীর সড়কের পিচ হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে : নয়া দিগন্ত

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রয়োজনীয় কারিগরি মান অনুসরণ না করে পিচ ঢালাই করায় হাতের স্পর্শেই সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে। একই সাথে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দু’টির কাজ ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পরে প্রকল্পটি পুনঃপ্যাকেজ (রিপ্যাকেজিং) করা হয়। এতে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দিয়ে উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের কাজ নতুন করে সময় নির্ধারণের মাধ্যমে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে বর্ধিত সময়সীমা ও সংশোধিত বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার অংশে পিচ ঢালাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি স্থানে পিচ উঠে গেছে। পাশাপাশি নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটলও চোখে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, পাথরের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। যথাযথভাবে প্রাইম কোট না দিয়েই পিচ ঢালাই করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের ওপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করেই কাজ করা হয়েছে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেয়া পিচ সহজেই উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজ শেষ হওয়ার আগেই গাইডওয়ালে ফাটল দেখা দেয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তারা আরো অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। পিচ ঢালাইয়ের সময় এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় তাদের দেখা যায়নি। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বড় অঙ্কের বিল উত্তোলনের অভিযোগও তুলেছেন অনেকেই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ করা হয়েছে। এ কারণেই স্থানীয় জনগণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, প্রাইম কোট যথাযথভাবেই দেওয়া হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। ১৮ মাইল এলাকার একটি প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করা হচ্ছে। যেসব স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করে দেয়া হবে।

কয়রা উপজেলা এলজিইডির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, বিটুমিন বা অন্য কোনো নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মানে সমস্যা পাওয়া যায়নি। বিটুমিনের রাস্তা পুরোপুরি শক্ত হতে কিছুটা সময় লাগে। সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পটির মান যাচাইয়ে স্বাধীন কারিগরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কার্যকর নজরদারি জরুরি।