চাঁদা বৃদ্ধির প্রতিবাদে ত্রিশালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
Printed Edition
ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘জিপি’ নেয়ার নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েক শ’ সিএনজি চালক উপজেলার ইভা ফিলিংস স্টেশনসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অবরোধের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, আগে প্রতিদিন জনপ্রতি ২০ টাকা করে ‘জিপি’ দিতে হতো। সম্প্রতি হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এসব টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালে সিএনজি চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং চালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। আগে ২০ টাকা দিতাম, এখন ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার ওপর মাসে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
সিএনজি চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন কোনো চাঁদা দিতে হয়নি। পরে আবার ১০ টাকা থেকে চাঁদাবাজি শুরু হয়। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয় ২০ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ টাকা। এখন আবার ৭০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। সেই সাথে মাসিক এক হাজার টাকাও চাওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে ঢুকতে দেয় না। এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটছে।
আরেক চালক মো: স্বপন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ময়মনসিংহ কলেজ গেট এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নেতৃত্বে এই চাঁদা তোলা হয়। আগে ৪০ টাকা নেয়া হতো, এখন ৭০ টাকা করা হয়েছে। আমরা স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে গাড়ি চালাতে চাই, চাঁদাবাজি চাই না।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর চালকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে দাবি আদায় না হলে আবারো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সিএনজি চালকরা।