জাপানের আপত্তি অগ্রাহ্য
প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
Printed Edition
রয়টার্স
জাপানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর তীব্র আপত্তি ও উদ্বেগ উপেক্ষা করে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বেইজিং। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন চীনা নৌবাহিনীর মুখপাত্র হলেন ওয়াং সুয়েমেং।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণমূলক সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী এই কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত উন্মুক্ত জলসীমায় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। বেইজিং এটিকে তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের একটি নিয়মিত অংশ হিসেবে দাবি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে। এই উৎক্ষেপণের দিনই চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান সামরিক বন্দর ছিংদাও-এর অদূরে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌমহড়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ওই মহড়ার অংশ কি না- তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক শক্তির এই বিরল প্রদর্শনীতে তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছে জাপান। অঞ্চলটিতে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত বেইজিংয়ের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, যা ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেইজিং তাদেরকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আসন্ন পরীক্ষা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিল। টোকিও জানিয়েছে, বেইজিংয়ে অবস্থিত জাপানি দূতাবাসকেও চীনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবহিত করেছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপান এই পরীক্ষা পুনর্বিবেচনার জোরালো আহ্বান জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলে, এই পরীক্ষা যেন জাপানের আকাশসীমা অতিক্রম করে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়।