উপনিবেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ চায় ব্রিটেন

Printed Edition

মিডেল ইস্ট আই

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘বিনিয়োগ, শ্রম ও অবদানের’ ঋণ শোধ করতে সাবেক উপনিবেশগুলোরই উল্টো ব্রিটেনকে অর্থ দেয়া উচিত বলে এক বিতর্কিত দাবি করেছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। চলতি বছরের শুরুতে কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে কট্টর ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-তে যোগ দেয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের দাবি, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আসলে গোটা পৃথিবীর জন্য অনেক ভালো কাজ করে গেছে।

দাসপ্রথাকে একটি ঘৃণ্য অধ্যায় হিসেবে স্বীকার করলেও ব্রেভারম্যান বলেন, অষ্টাদশ শতকের কোনো ঘটনার দায় নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ নাগরিকরা ক্ষতিপূরণ দেবে এমন চাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি থাকতে পারে না। তবে তার এই আইনি যুক্তির সাথে ব্রিটিশ সরকারের নথির কোনো মিল নেই। সরকারি তথ্য বলছে, দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর দাসদের নয়, বরং দাসমালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১৮৩৫ সালে দুই কোটি পাউন্ড ঋণ নিয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার, যা ছিল সে সময়ের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ (বর্তমান মূল্যে যা ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি)। ২০১৮ সালে এসে খোদ ব্রিটেন সরকারই স্বীকার করে যে, ২০১৫ সালে এই ঋণের শেষ কিস্তি শোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্রিটিশ করদাতাদের কয়েক প্রজন্ম ধরে দাসমালিকদের পাওনা মেটাতে হয়েছে। ব্রেভারম্যান মূলত লেবার পার্টির এমপি বেল রিবেরো-অ্যাডির একটি পোস্টের জবাবে এই ক্ষোভ উগরে দেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের একটি খবর শেয়ার করে রিবেরো-অ্যাডি লিখেছিলেন, জ্যামাইকার উচিত রাজা চার্লসের কাছে সরাসরি আনুষ্ঠানিক পিটিশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করা।