‘এআই’ সামরিক সিস্টেমে গাজা ও লেবাননে সাড়ে ৮ লাখ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ইসরাইলের
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
গাজা ও লেবানন যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে ইসরাইলি বাহিনী তাদের অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত সব কটি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরাইলের ‘তায়াদ’ (হান্টার) ডিজিটাল আর্মি প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে (রিয়েল-টাইম) মোট আট লাখ ৫০ হাজার লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর এক সামরিক প্রেজেন্টেশনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
লন্ডনে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সামরিক সম্মেলনে এলবিট সিস্টেমসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রিজার্ভ মেজর জেনারেল মিকি এডেলস্টাইন এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এই বিশাল সংখ্যাটি মূলত স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথ থেকে সম্ভাব্য হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা মানুষ, যানবাহন এবং বিভিন্ন বস্তুর পরিমাণকে নির্দেশ করে, যা গত তিন বছর ধরে ইসরাইলের চালানো প্রাণঘাতী যুদ্ধের ভয়াবহ তীব্রতা ও ব্যাপকতাকেই স্পষ্ট করে। সেমিনারে এডেলস্টাইনের উপস্থাপিত সøাইডে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তীব্র গতির অভিযানের বিবরণ দিয়ে ২০ হাজারের বেশি যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং আট লাখ ৫০ হাজার রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করা হয়।
অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা ও অবকাঠামোই ছিল ইসরাইলের টার্গেট!
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞ এবং মার্কিন পেন্টাগনের সাবেক সিনিয়র টার্গেটিং উপদেষ্টা ও নীতি বিশ্লেষক ওয়েস ব্রায়ান্ট এই সাড়ে আট লাখের পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে গাজায় ২২ লাখ মানুষ এবং তিন লাখ ভবন ছিল। এই হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী কোনো না কোনো সময়ে গাজার মোট জনসংখ্যা এবং সামগ্রিক অবকাঠামোর অর্ধেক বা তারও বেশি অংশকে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। উল্লেখ্য, এলবিট সিস্টেমস মূলত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই ‘তায়াদ’ ডিজিটাল আর্মি প্রোগ্রাম সরবরাহ করে থাকে, যা মানচিত্রে নিজেদের সৈন্য এবং শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা পক্ষগুলোর অবস্থান নিখুঁতভাবে তুলে ধরে।
অভিযোগ অস্বীকার এলবিট সিস্টেমসের, পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তার দ্বিমত
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এলবিট সিস্টেমসের একজন মুখপাত্র সøাইডে ‘লক্ষ্যবস্তু’ শব্দের স্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও দাবি করেন, সাড়ে আট লাখের এই সংখ্যাটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু নয়। বরং এটি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ডিজিটাল আর্মি প্রোগ্রামের সামগ্রিক সিস্টেম কার্যক্রম ও ডেটা প্রসেসিংয়ের পরিমাণ। এটি প্রকৃত হামলার সংখ্যা বা শত্রুর লক্ষ্যবস্তু নয়। তবে পেন্টাগনের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ব্রায়ান্ট এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তথ্যের পরিমাণ এত বিশাল হলে যেকোনো সেনাবাহিনীর পক্ষে প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে তা আসলেই বৈধ লক্ষ্যবস্তু কি না, তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।