কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা : নিহত ১১

Printed Edition

বিবিসি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরো ৪৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর কিয়েভের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। রুশ হামলায় অন্তত দু’টি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে এবং সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, গত বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর মস্কো কিয়েভে আরো বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক আবাসিক ভবনে আগুন লাগার পাশাপাশি কয়েকটি গুদামঘর ও গ্যারেজ ওয়ার্কশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপোরিঝঝিয়া শহরেও দু’টি রুশ গাইডেড বোমা হামলায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং দুই শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্যমতে, সেখানে ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ও বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের লাশ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হলেও ইউক্রেন তাতে সাড়া দেয়নি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে ধাপে ধাপে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।