হামলার ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শন তথ্যমন্ত্রীর

Printed Edition
3rd-2
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শন করেন : নয়া দিগন্ত

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর করা থানা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল-১ আসনের এমপি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার আগৈলঝাড়া থানায় পৌঁছে হামলায় ভাঙচুর করা কক্ষ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আহত পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে তথ্যমন্ত্রী আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: শামীমুল হক জানান, থানায় হামলার ঘটনার পুলিশের দায়ের করা মামলায় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন ও সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামকে আসামি করার বিষয়টি তারা তথ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে এ ঘটনায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টিও দেখা হবে।

সিটিভির ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ সময় আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো: মাসুদ খাঁন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না, প্রেস ক্লাব সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানাসহ অন্যান্য সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে গত বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ। থানার হাজতখানার লোহার দরজায় রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পরেরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক ব্যক্তি মিছিল নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকে পুলিশকে মারধর করে ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয়পরে ১২ জন আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে।

ওই মামলায় শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত নারী-পুরুষসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।