বজ্রপাতে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ১২ জনের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু পটুয়াখালী জেলাতেই মারা গেছেন এক নারীসহ চারজন। এ ছাড়া জামালপুর ও বরগুনায় দু’জন করে এবং বাগেরহাট, গাজীপুর, রংপুর ও রাজবাড়ীতে একজন করে মারা গেছেন।

পটুয়াখালীতে নারীসহ নিহত ৪

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে গতকাল এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিনে বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল বেলা ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) বজ্রপাতে মারা যান। বেলা ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান সেতারা বেগম (৫৫)। একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান সৌরভ মজুমদার (২২)। এ ছাড়া গত দুই দিনে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৫০টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি ও বজ্রপাত চলাকালে অসচেতনভাবে খোলা মাঠে অবস্থান করায়ই এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বরগুনায় নিহত ২, অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী : বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু ও ১৫ স্কুলশিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মারা যাওয়া দু’জন হলেন আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামের মো: নূর জামাল (৫৪) ও পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে মো: আল আমিন (৩০)। এ দিকে দুপুরে সদর উপজেলার ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের পাশে বজ্রপাত হয়। তখন বিকট শব্দে ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে আটজন বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি সাত শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

বাগেরহাটে নিহত ১ : বাগেরহাট সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে দিনমজুর রবিন হাওলাদার (৫৩) মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে। বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুরে নিহত ১ : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাড়ির উঠানে বাঁধা গরু গোয়ালে নেয়ার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন গৃহবধূ সাহেরা বেগম। তিনি ওই গ্রামের আজিজার রহমানের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে মো: শামীম মিয়া (৩৭) ও সাপধরী ইউনিয়নে সাগর ইসলাম নামে সাগর ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার গাইবান্ধা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে শামীম মিয়া মারা যান। তিনি উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলী মেম্বারের (মেঘু মেম্বারের) ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, সকালে নদীতে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে শামীম ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা লাশ উদ্ধার করেন।

গাইবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্য দিকে উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন পাকা সড়কের কাজ করার সময় বজ্রপাতে শ্রমিক সাগর ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় সেখানে ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে সবাই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাগর ইসলাম কিছুটা পেছনে পড়ে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে বাড়ির পাশের দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মণ্ডলের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের মেয়েটি কোল থেকে ছিটকে পড়লেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে।

মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জনি খান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সুমন মণ্ডল মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে। আগে একটি এনজিওতে কর্মরত থাকলেও সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে বজ্রপাতে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। তার নাম জাকির হোসেন খান (৩২) উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বারাইয়া গ্রামের সুলতান খানের ছেলে। গতকাল সকালে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, অন্যান্য দিনের মতো জাকির হোসেন বিল থেকে মাছ ধরে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে সেই মাছ বিক্রির জন্য বন্ধু শরিফের বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে জাকির সড়কে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময়ে বাজার থেকে ফিরছিলেন প্রতিবেশী হামিদ খান। তিনি জাকিরকে সড়কে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে লোকজনকে ডাকাডাকি করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জাকিরকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ অফিস জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দায় রাংসা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী গ্রামের চৌরাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাদ্দাম হোসেন ওই গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে, কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান সাদ্দাম হোসেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।